রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার মো. বেলজার হোসেন বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস কাজ করে সড়ক পথে। আর নৌ-ফায়ার সার্ভিস (রিভার স্টেশন) কাজ করে নদী পথে। যদি নৌ-ফায়ার সার্ভিস (রিভার স্টেশন) থাকে, তাহলে নদী পথে বোটযোগে পাম্প মেশিনসহ দ্রুতই ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হবে। তবে এর জন্য অতিরিক্ত যন্ত্রপাতি ও লোকবলের প্রয়োজন পড়বে।’
গত ১৩ জানুয়ারি রাঙামাটির বাণিজ্যিক এলাকাখ্যাত রিজার্ভ বাজার মসজিদ কলোনিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অন্তত ৮৪টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়। প্রায় আড়াই কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাওয়াল উদ্দিন বলেন, ‘সড়ক পথে ফায়ার সার্ভিস আসতে যে সময় লাগে, নৌপথে এলে আরও তাড়াতাড়ি আসতে পারে।’
রিজার্ভ বাজারের অগ্সিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত মো. কামাল হোসেন জানান, যদি হ্রদঘেরা এই রাঙামাটিতে নৌ-ফায়ার স্টেশন (রিভার স্টেশন) থাকতো, তাহলে আরও অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতো।
রাঙামাটি উন্নয়নকর্মী ললিত সি চাকমা বলেন, ‘ভূ-প্রকৃতিগত কারণে নৌ-ফায়ার স্টেশন (রিভার স্টেশন) খুব জরুরি। সড়কপথে সব এলাকায় পৌঁছানো সম্ভব না। হ্রদের পাশের এলাকাগুলোতে তো রাস্তাও নেই। সেখানে দ্রুত গতিতে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন পৌঁছাতে হলে অবশ্যই পানি পথে যেতে হবে। সেই কারণেই নৌ-ফায়ার স্টেশন (রিভার স্টেশন) খুবই জরুরি।’
রাঙামাটি বনরূপা বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবু সৈয়দ বলেন, ‘রাঙামাটি শহর লেক তীরবর্তী। এখানকার পাড়া-মহল্লাগুলোর রাস্তা ছোট হওয়াতে বিভিন্ন সময়ে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ওইসব রাস্তা দিয়ে যেতে পারে না। এতে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। দীর্ঘদিনের এই দাবি এখনও আলোর পথ না দেখায় হতাশা প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা।’
পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. করিম বলেন, ‘নদী পথে একটি ফায়ার সার্ভিস (নৌ-ফায়ার স্টেশন) যদি থাকে, তাহলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি থেকে রাঙামাটির মানুষ রক্ষা পাবে।’
প্যানেল মেয়র কালায়ন চাকমা বলেন, ‘নৌ-ফায়ার স্টেশন (রিভার স্টেশন) ফাইল বন্দি না রেখে এখনই এর বাস্তবায়ন দেখতে চাই। ’
রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) দিদারুল আলম বলেন, ‘জায়গার অভাবে রিভার ফায়ার স্টেশন স্থাপন করা যাচ্ছে না। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা করেছি। যদি জায়গা পাওয়া যায়, নৌ-ফায়ার স্টেশন (রিভার স্টেশন) স্থাপনে আর কোনও বাধা থাকবে না।’
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদ বলেন, ‘নৌ-ফায়ার সার্ভিস থাকবে নদীতে। তাদের জন্য কেন জায়গা লাগবে, আমি জানিনা। তারপরও আমি ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখবো, যাতে দ্রুতই এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া যায়। গত কয়েকদিন আগে রিজার্ভ বাজার এলাকায় যে আগুন লেগেছিল, যদি লেকের দিক থেকে পানি দেওয়া যেত, তাহলে আরও কম ক্ষতি হতো। আরও কম সমময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতো।’