টাকা না দেওয়ায় ভাবিকে হত্যা

 

 

গ্রেফতারটাকা না দেওয়ায় বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে খুন করেছে ফরহাদ হোসেন লিমন (২২) নামে এক যুবক। সে গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে আকবর শাহ থানাধীন কালিরহাট এলাকার ইদ্রিস সওদাগর ভবনের নিচতলার বাসিন্দা হাসিনা বেগমকে (৩২) গলা টিপে হত্যা করে। সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দামপাড়া পুলিশ লাইনে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম।

তিনি জানান, নিহত হাসিনা বেগমের ভাইয়ের দায়ের করা মামলায় লিমনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে হত্যার কথা স্বীকার করে।

নিহত হাসিনা বেগম নোয়াখালী জেলার সুধারাম থানাধীন পশ্চিম মাইজচরা এলাকার মৃত নিজাম চৌধুরীর মেয়ে। তিনি নগরীর আকবর শাহ থানাধীন কালিহাট এলাকার ইদ্রিস সওদাগরের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। পাশাপাশি নগরীতে পোশাক শ্রমিকের কাজ করতেন। তার স্বামী সৌদি প্রবাসী, একমাত্র ছেলে আবির হোসেন (১২) নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করে।
আমেনা বেগম বলেন, ‘নিহত হাসিনা বেগম যে ভবনে থাকতেন ওই ভবনেই ব্যাচেলর হিসেবে ভাড়া থাকতো তার দেবর মো. ফরহাদ হোসেন লিমন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টার দিকে হাসিনা বেগম রান্নাঘরে পানি গরম করার সময় লিমন টিভি দেখার কথা বলে তার রুমে ঢুকে। পরে হাসিনা বেগম পানি গরম করে ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় লিমন তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। সে রাত ৩টার দিকে হাসিনা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে তার সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন নিয়ে বাইরে থেকে দরজায় তালা দিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় নিহত হাসিনা বেগমের ভাই মোহাম্মদ মানিক বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গ্রেফতারের পর লিমনকে আদালতে নিলে আদালত তাকে ৫ দিনের রিমান্ড দেয়। রিমান্ডে লিমন পুলিশের কাছে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে। স্বীকারোক্তি অনুযায়ী তার বাসা থেকে ১ জোড়া বড় স্বর্ণের দুল, ২ জোড়া ছোট স্বর্ণের কানের দুল, ১টি স্বর্ণের নাকের নথ, স্বর্ণের ব্রেসলেট ১টি, ১ জোড়া ছেঁড়া স্বর্ণের চেইন, ১টি স্বর্ণের লকেট, ১ জোড়া রুপার নূপুর উদ্ধার করা হয়।
আমেনা বেগম বলেন, ‘লিমন পুলিশকে জানিয়েছে তার ভাবি হাসিনা বেগমের কাছে টাকা চাইলে কখনো দিতো না। আর্থিক সহায়তা না পাওয়ায় তার মধ্যে চরম ক্ষোভ দেখা দেয়। সেজন্যেই টিভি দেখার নাম ঘরে ঢুকে সুযোগ পেয়ে তাকে হত্যা করে।’