বছরের শুরুতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে সব বই তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে। বছর শুরুর দেড় মাস পরও তাদের অনেকেই এখনও নিজ মাতৃভাষার বইগুলো পায়নি। উপজেলা শিক্ষা অফিসে এখনও বস্তাবন্দি এসব বই। গত পয়লা জানুয়ারি বই উৎসবের মাধ্যমে চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরা ভাষার বই বিতরণ করা হয়। তবে রাঙামাটি পৌর এলাকায় প্রায় ২৬টি বিদ্যালয় ও সদরের ৮৯টি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোসহ বিভিন্ন উপজেলায় এখনও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুদের হাতে পৌঁছেনি মাতৃভাষার সব বই।
গত সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে দেখা যায়, রাঙামাটি সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের বই গুদামে এখনও মজুত রয়েছে মারমা ভাষায় দ্বিতীয় শ্রেণির গণিত, বাংলা ও ইংরেজি; চাকমা ভাষায় দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা ও গণিত; চাকমা ভাষায় প্রথম শ্রেণির গণিত বইসহ বিভিন্ন শ্রেণির বই। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে ২০১৭ সালে স্ব স্ব মাতৃভাষায় পাঠ্যক্রম তৈরি করা হয় এবং ২০১৯ সালে এ পাঠ্যক্রম প্রাক-প্রাথমিক পর্যায় থেকে দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কার্যকর করা হয়।
বনরূপা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির দুইজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা এখনও তাদের নিজ ভাষায় পাঠ্যপুস্তক পায়নি। সংশ্লিষ্ট ভাষার শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় শ্রেণির কোনও ক্লাস নেওয়াও হচ্ছে না প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাবে।
বনরূপা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অর্চনা তালুকদার বলেছেন, ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের সকল বই আমরা পেয়েছি, কিন্তু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির শিক্ষার্থীদের কিছু বই এখনও দেওয়া হয়নি। অফিসে না কি চলে এসেছে, আমরা নিয়ে আসব।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ত্রিরতন চাকমা বলেছেন, ‘আমরা সব বইয়ের চাহিদা সঠিক সময়ে দিয়েছি। সাধারণ বই সরাসরি মন্ত্রণালয় থেকে উপজেলায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু মাতৃভাষার বই চট্টগ্রাম ডিডি অফিস থেকে আমাদের আনতে হয়। কিছু বই বছরের প্রথম দিনে দেওয়া হয়েছে আর কিছু বই আসছে। যেগুলো আসছে সেগুলো এই মাসের মধ্যে বিতরণ শেষ হবে।’
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. খোরশেদ আলম বলেছেন, ‘আমাদের মাতৃভাষায় বইয়ের চাহিদা ছিল ৮৬ হাজার ৭৬৯টি। বই পেয়েছি ৮৬ হাজার ৩১৮টি। সব বই উপজেলা পর্যায়ে দিয়েছি এবং উপজেলা থেকে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে গেছে।’