রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এনজিওদের নিয়োগে স্থানীয়দের অগ্রাধিকারের দাবি

52967837_546547732507993_8158236979423608832_nকক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত বিভিন্ন এনজিওতে চাকরির ক্ষেত্রে স্থানীয়দের অগ্রাধিকারের দাবিতে কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন এলাকার মানুষ। সোমবার (৪ মার্চ) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উখিয়া উপজেলার কোটবাজার স্টেশনে এ প্রতিরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।‘ অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি উখিয়া’র উদ্যোগে তারা এ প্রতিরোধ কর্মসূচি পালন করেন।

কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের কোটবাজার চৌরাস্তার মাথায় কাফনের কাপড় পরে অবস্থান নেন চাকরি বঞ্চিত শত শত বেকার যুবক। এ সময় তাদের সমর্থনে উখিয়ার হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় শান্তিপূর্ণ অবস্থান পালন করেন। কর্মসূচি পালনকালে রাস্তায় হাজার হাজার যানবাহন আটকে যায়। এদিকে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের আশ্বাসের ভিত্তিতে এক সপ্তাহের আল্টিমেটাম দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেন ‘অধিকার বাস্তবায়ন কমিটি উখিয়া’র শীর্ষনেতা ইমরুল কায়েস চৌধুরী।

53306468_834612513547020_5166557052465577984_n

এ সময় ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, ‘এক মাস আগে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত স্থানীয়দের ছাঁটাই বন্ধসহ চাকরিতে তাদের অগ্রাধিকারের দাবিতে এ কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। ওই সময় কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন ও নির্বাহী কর্মকর্তা নিকারুজ্জামান চৌধুরী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিওগুলোর সমন্বয়ে সভায় করে সময় বেঁধে দেন। এনজিওগুলো বিভিন্ন অজুহাতে সময় পার করছে। তারা কোনও গুরুত্বই দিচ্ছে না। যার পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনকারীরা অহিংস আন্দোলনকে সহিংসতার দিকে নিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। এর সব দায় এনজিওগুলোকে নিতে হবে।

এ সময় নেতারা বলেন, সাম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত এনজিওগুলোতে স্থানীয়দের গণহারে ছাঁটাই করা হয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঠেকাতে দেশি-বিদেশি এনজিওগুলো পরিকল্পিতভাবে স্থানীয়দের চাকরি থেকে ছাঁটাই করছে। এছাড়াও স্থানীয়দের বাদ দিয়ে এনজিও কর্মকর্তারা বিশেষ সুবিধা নেওয়ার জন্য স্বজনদের চাকরি দিচ্ছেন।’

53084620_258206275068294_6992716677880217600_n

খবর পেয়ে উখিয়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফখরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আশ্বাস দিয়ে আন্দোলনকারীদের শান্ত করেন। এ সময় তিনি বলেন, আপনাদের আন্দোলন ও দাবির যৌক্তিকতা রয়েছে। আপনাদের সব দাবি মেনে নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে আপনাদের বার্তা জেলা প্রশাসক ও ইউএনও মহোদয়ের মাধ্যমে শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তিনি অবস্থান কর্মসূচি স্থগিতের অনুরোধ জানান আন্দোলনকারীদের।

এ সময় স্থানীয়দের বাঁধার মুখে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যেতে পারেনি এনজিও কর্মীরা। সকাল ৭টা থেকে চাকরির দাবিতে কক্সবাজার টেকনাফ-আরকান সড়কে কোটবাজারে অবরোধ করে হাজার হাজার এলাকাবাসী। এ সময় তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পমুখী এনজিওগুলোর শত শত গাড়ি ফিরিয়ে দেয়।

উখিয়া থানার ওসি নুরুল ইসলাম জানিয়েছেন, চাকরির দাবিতে সকাল থেকে স্থানীয়রা রাস্তা অবরোধ ও আন্দোলন শুরু করে। এতে প্রায় ৩ ঘণ্টা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।