ঢলের পানিতে ভেঙে যাওয়া চকরিয়ার মাতামহুরী নদীর তীর সংরক্ষণের জন্য সিসি ব্লক নির্মাণের কাজ হাতে নেয় কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। এজন্য সিলেটের পাথর ও বালি ব্যবহারের কথা। কিন্তু, এসবের পরিবর্তে ময়লা বালু ও সিমেন্ট (পলি মাটি) দিয়ে কাজ চালিয়ে দেয় ঠিকাদার। পরিমাণেও কম দেয় বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তোলেন। এরপর ২৭ ফেব্রুয়ারি দুদক অভিযান চালায়। অভিযানে নির্মাণাধীন সিসি ব্লকে অনিয়ম ও দুর্নীতির সত্যতা পান দুদকের কর্মকর্তারা। এ ব্যাপারে দুদক পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলে, ওই দিনই পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী তারেক বিন ছগিরকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে পাউবো।
দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের প্রধান মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী জানান, অভিযানকালে দুদক টিম দেখতে পায়, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান স্টারলাইট সার্ভিসেস অ্যান্ড অর্ণা করপোরেশন মাতামুহুরী নদীর লক্ষ্যারচর এলাকায় প্রতিরক্ষা কাজে ২০০ মিটার স্থানে ২৪ হাজার ব্লক ফেলেছে। কোচপাড়া প্রতিরক্ষা কাজে আরও ৭১ হাজার ব্লক ফেলা হবে। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ব্লক নির্মাণের জন্য স্তুপ করে রাখা পাথরগুলো অত্যন্ত নিম্নমানের। ব্লকের নমুনা খালি হাতে একটু চাপ দিলেই ভেঙে গুড়ো হয়ে যায়। ওই ব্লকে সিমেন্ট, বালু ও পাথরের মিশ্রণের অনুপাত ১:৩:৬ হওয়ার নিয়ম থাকলেও তা রাখা হয়নি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পৌরসভার কোচপাড়া অংশের ৩০০ মিটার ব্লক তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে মাতামুহুরী নদী থেকে শ্যালো মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে তোলা পলি মিশ্রিত ময়লা বালু। এই বালু দিয়ে তৈরি সিসি ব্লকের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নিয়ম রয়েছে, এ ধরনের কাজ চলমান থাকার সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের উপস্থিত থাকতে হবে, কাজের মান ঠিক রাখার জন্য। কিন্তু পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেউ থাকছেন না। এতে ঠিকাদাররা নিজেদের ইচ্ছামতো ব্লক তৈরি করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, কোচপাড়া অংশের এই কাজটি করা হচ্ছে একেবারেই নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে। যেখানে সিলেটি বালু ও পাথর ব্যবহারের শর্ত রয়েছে, কিন্তু ব্যবহৃত হচ্ছে মাতামুহুরী নদীর পলিমাটি মিশ্রিত ময়লা বালু এবং পাহাড়ি বোল্ডার পাথর। আবার যে পরিমাণ সিমেন্ট ব্যবহারের নিয়ম রয়েছে তাও করা হচ্ছে না।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডর নির্বাহী প্রকৌশলী তয়ন কুমার ত্রিপুরা বলেন, ‘কিছুটা অনিয়ম হয়েছে। এজন্য আমার অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে আপাতত অব্যাহতি দিয়েছি। দুদকের অভিযোগের পর পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. মাকসুদুর রহমানের নির্দেশে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আমরা এখন ওই ব্লক ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবো এবং ঠিকাদারের কাজের মান ঠিক না হলে কোনোভাবেই অর্থ ছাড় দেবো না।’