প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা করা ‘সবার জন্য বাসস্থান’ কর্মসূচির আওতায় স্বপ্নপূরণ হয়েছে ৪৮০টি পরিবারের। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় ‘জমি আছে, ঘর নাই’ আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে গৃহহীন এই পরিবারগুলো পেয়েছে ঘর। সুফলভোগীদের একজন মন্তব্য করেছেন, ‘শেখের বেটি আংগোরে ঘর দিসে, আমরা হেরে দোয়া দিয়াম।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর কাছ থেকে জানা গেছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় গৃহহীন পরিবারগুলোর জন্য ৪৮০টি আধাপাকা ঘর বরাদ্দ নির্মাণের তহবিল বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি ঘর ও টয়লেট নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় এক লাখ টাকা করে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের কমিটি ঘর নির্মাণ করে সম্প্রতি গৃহহীনদের মধ্যে সেগুলো হস্তান্তর করে।
বুধবার (১৩ মার্চ) ঘর পাওয়া চন্ডিপুর ইউনিয়নের অভিরামপু গ্রামের শাহিনুর বেগমের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, ‘দশ বছর ধরি একখান ঘর কইত্তে হারিনো। তুফান আইলে ঘর উড়াই লই যায় কি না হেই ডরে ঘুম আইতো না। মেঘ আইলে হানি হড়ে, শীতকালে ঠাণ্ডায় খুব কষ্ট হাই। ওন আংগোরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘর বানাই দিছে, লেপটিনও করি দিছে। খুব ভালা ওইছে। এখন আডা খুশি। শেখের বেটি আংগোরে ঘর দিছে, আমরা হেরে দোয়া দিয়াম।’ চন্ডিপুর গ্রামের বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী মাহফুজাকে পরিত্যাগ করে তার স্বামী। বাবার বাড়িতে ঠাঁই না পেয়ে ৩০ বছর যাবত বোনের বাড়িতে সামান্য জায়গায় পাতার ছাউনির একটি ঝুঁপড়ি ঘরে বসবাস করতেন তিনি। বিনামূল্যে ঘর পেয়ে তিনি খুব খুশি, যাকে পান তাকেই ঘরটি দেখিয়ে বলেন, ‘হাসিনারে আল্লাহ বাচাই রাখুখ।’
ঘর পেয়ে উচ্ছ্বাস ও আনন্দ প্রকাশ করে নিচহরা গ্রামের দিনমজুর বিল্লাল হোসেন বলেছেন, ‘অনেকদিন থেকে ছেলেমেয়েদের নিয়ে থাকতে খুব সমস্যা হচ্ছিল। মনে মনে একটি ঘর করার স্বপ্ন দেখতাম। কিন্তু অভাবে সেটি হয়নি। এখন শেখ হাসিনা গরিবের দুঃখ বুঝে সুন্দর একটি ঘর দিয়েছে। তাই মাথা গোঁজার জাগা পাইছি।’ ঘর পেয়ে খুশি নন্দনপুর গ্রামের গ্রামের রিকশাচালক আমির হোসেন, ভোলাকোট গ্রামের বিধবা রৌশনারা বেগম, অভিরামপুর গ্রামের অসহায় কবিতা কংশ বনিক, টামটা গ্রামের প্রতিবন্ধী মো. সফিকসহ উপজেলার দুস্থ ও অসহায় অনেকেই।
ঘর বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য ভাদুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন ভূইয়া বলেছেন, ‘যার জমি আছে, ঘর নাই এমন ব্যক্তির নিজ জমিতে গৃহ নির্মাণ করে দেওয়ার প্রকল্পটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোশারফ হোসেনের ভাষ্য, সরকারি বিধি মোতাবেক যথাযথভাবে প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ করা হয়। ১৫ ফুট দৈর্ঘ্য এসব ঘরের মেঝে পাকা। সামনে খোলা বারান্দা। আছে আরসিসি পিলার, উন্নত টিনের বেড়ার ছাউনি। এর সঙ্গে একটু দূরে পয়োনিষ্কাশনের জন্য দেওয়া হয়েছে টয়লেট।
উপজেলা চেয়ারম্যান আকম রুহুল আমিন জানিয়েছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক এই মহৎ কাজটি যেন সঠিক এবং সুন্দরভাবে হয়, সেজন্য সব সময় জেলা প্রশাসকের পরামর্শক্রমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ আমরা সবাই রাতদিন আপ্রাণ চেষ্টা করেছি। গত বছর এপ্রিল মাস থেকে কাজ শুরু করে গত ৩১ ডিসেম্বর মধ্যে ৪৮০টি পরিবারকে তালিকা অনুযায়ী ঘর বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।’