সুবর্ণচরে স্বামীকে আটকে রেখে ধর্ষণ: আরও তিনজন গ্রেফতার

গ্রেফতারনোয়াখালীর সুবর্ণচরে স্বামীকে আটকে রেখে এক নারীকে (৩৫) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় এজাহারভুক্ত আরও তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার আসামিরা হলো, আরমান, রুবেল ও রায়হান। এর আগে সোমবার অভিযুক্ত আবুল বাসার ও ইউসুফ মাঝিকে আটক করেছে চরজব্বর থানা পুলিশ। এ নিয়ে পুলিশ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে।

চরজব্বর থানার ওসি (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল জানান, আটক আবুল বাশার ও ইউসুফ মাঝিকে মঙ্গলবার দুপুরে ২নং আমলি আদালতে হাজির করে সাতদিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। বিচারক মাসফিকুল হক বুধবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে আসামিদের জেল হাজতে পাঠানের নির্দেশ দেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, মামলার সব আসামিকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে। এ জন্য সব ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম জানান, মঙ্গলবার দুপুরে নির্যাতিতার সব ধরনের ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ মার্চ সুবর্ণচর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদের নির্বাচনে ভিকটিম ও তার স্বামী চশমা প্রতীকের প্রার্থী তাজউদ্দিন বাবরকে সমর্থন করেন। সন্ধ্যায় তারা মোটরসাইকেলে চরবাগ্যা গ্রামে নিজেদের বাড়িতে যাওয়ার পথে তালা প্রতীকের প্রার্থী নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন বাহারের সমর্থক ইউসুফ মাঝির নেতৃত্বে ১০-১২ জন তাদের পথরোধ করে। পরে তাদের উত্তর বাগ্যা গ্রামের রুহুল আমিনের মৎস্য খামারের কাছে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে মারধর করে। বেচু মাঝি, বজলু ও আবুল বাসার ওই নারীকে মৎস্য খামারের পাশে কলাবাগানে নিয়ে মারধরের পর ধর্ষণ করে। এ সময় তার স্বামীর চিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে। পরে রাতেই তাদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। পরের দিন নির্যাতিতার স্বামী ৮ জনের নাম উল্লেখ, অজ্ঞাত আরও চারজনসহ মোট ১২ জনকে আসামি করে চরজব্বার থানায় মামলা দায়ের করেন।