সুবর্ণচরে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের আলামত মিলেছে

নোয়াখালীনোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরজুবলী ইউনিয়নের উত্তর বাগ্যায় ছয় সন্তানের মাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের আলামত মিলেছে। বুধবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম বলেন, আন্তরিকতা ও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খুব দ্রুতই নির্যাতিতার স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। মঙ্গলবার মেডিক্যাল অফিসার শাহানারা আক্তার লিপির নেতৃত্বে একটি মেডিক্যাল টিম তার শারীরিক পরীক্ষা শেষ করেন। বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদনটি তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. খলিল উল্যার কাছে জমা দিলে তিনি পুলিশ সুপার নোয়াখালীর কার্যালয়ে তা পাঠিয়ে দেন।

বুধবার জেলার ২নম্বর আমলি আদালতের বিচারক নবনীতা গুহ আসামি আবুল বাশারকে তিন দিন ও ইউসুফ মাঝিকে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার প্রধান আসামি আবুল কালাম ওরফে বেচু মাঝি (৩৫) সকালে একই আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠান।

চর জব্বর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইব্রাহিম খলিল জানান, পুলিশ এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করে এবং একজন স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করে।

উল্লেখ্য, গত ৩১ মার্চ সুবর্ণচর উপজেলায় ভাইস চেয়ারম্যান পদের নির্বাচনে ও নারী ও তার স্বামী চশমা প্রতীকের প্রার্থী তাজ উদ্দিন বাবরের সমর্থনে ভোট করেন। সন্ধ্যায় তিনি ও তার স্বামী মোটরসাইকেলযোগে চর বাগ্যা গ্রামে নিজেদের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে তালা প্রতীকের প্রার্থী ও নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন বাহারের সমর্থক ইউসুফ মাঝির নেতৃত্বে ১০-১২জন উত্তর বাগ্যা গ্রামের রুহুল আমিনের মৎস্য খামারের কাছে তাদেরকে মারধর করে। এ সময় বেচু মাঝি, বজলু ও আবুল বাশার ওই নারীকে মৎস্য খামারের পাশে কলা বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে। স্বামীর চিৎকারে এলাকার লোকজন ছুটে এসে তাদেরকে উদ্ধার করে। পরের দিন আটজনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাত আরও চারজনসহ মোট ১২জনকে আসামি করে চর জব্বর থানায় মামলা দায়ের করেন ওই নারীর স্বামী।