সিরাজ উদ্দৌলার পক্ষে আইনি সহায়তা, আ. লীগ নেতা অ্যাডভোকেট সোহাগ বহিষ্কার

আ. লীগ নেতা অ্যাড. সোহাগ

ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে শ্লীলতাহানি ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার প্রধান আসামি মাওলানা সিরাজ উদ্দৌলার পক্ষে আইনি সহায়তা করার অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট কাজী বুলবুল আহম্মেদ সোহাগকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) জেলা আওয়ামী লীগ পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সোহাগ সদর উপজেলার কাজীরবাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।
দলীয় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বুধবার মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার পক্ষে আদালতে আইনি লড়াই করায় দল ও পদ থেকে সোহাগকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অ্যাডভোকেট সোহাগ সদর উপজেলার কাজীরবাগ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবদুর রহমান বলেন, ‘এই নিয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় সোহাগের বিরুদ্ধে এ ধরনের ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিমের পরীক্ষার্থী ছিল। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে এর আগেও ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এ সময় তাকে কৌশলে একটি বহুতল ভবনে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে দাহ্য পদার্থ দিয়ে আগুন দেওয়া হয়। বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাত মারা যান।

নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর ৮ এপ্রিল নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সোনাগাজী থানায় একটি মামলা (নম্বর ১০) দায়ের করেন।
আসামিদের মধ্যে পলাতক রয়েছে— সোনাগাজীর পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলম, অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার অন্যতম সহযোগী নূরউদ্দিন, ওই মাদ্রাসার ছাত্র সোনাগাজী পৌরসভার উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হাসান ও আব্দুল কাদের।