শুক্রবার (১২ এপ্রিল) মধ্যরাতে সোহেল ও আল আমিনের মরদেহ হযরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। পরে তাদের পরিবারের লোকজন অ্যাম্বুল্যান্সে করে মরদেহগুলো বাড়ি নিয়ে আসে।
নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আল আমিন সাত মাস আগে জীবিকার তাগিতে মালয়শিয়া পাড়ি জমান। এখনও ঋণের টাকাই পরিশোধ করতে পারেনি তিনি। বাবা-মা ও তিন ভাইসহ তার পরিবার। আল আমিন সবার বড়।
আল আমিনের বাবা আমির হোসেন বলেন, ‘ঋণ করে ৭ মাস আগে ছেলেকে মালয়েশিয়া পাঠাই। এখন তো ছেলেকে হারিয়ে ফেললাম। ঋণের বোঝাও মাথার ওপর। তাই মালয়েশিয়া সরকার এবং বাংলাদেশ সরকারের কাছে আমরা আর্থিক সহযোগিতা চাই।’
একমাত্র ছেলে সোহেলকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা আনোয়ার হোসেন। ৮ মাস আগে বিভিন্ন এনজিও থেকে টাকা উঠিয়ে মালয়েশিয়ায় যায় সোহেল। চার বোনের একমাত্র ভাই ছিলেন তিনি। তার ৮ মাস বয়সী একটি কন্যা সন্তান আছে।
সোহেলের বাবা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ব্র্যাক ও আত্মীয়দের কাছ থেকে চার লাখ টাকা ঋণ করে ছেলেকে মালয়েশিয়া পাঠিয়েছিলাম। সংসারের আর্থিক সচ্ছলতা আনার আশায় আমার সন্তান বিদেশে পাড়ি জামায়। সুখের সন্ধান করতে গিয়ে এভাবে লাশ হয়ে ফিরবে তা কল্পনাও করিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই আট মাসে সোহেল দেশে প্রায় ৯০ হাজার টাকা পাঠিয়েছিল। কিন্তু তার এক টাকাও আমরা কাজে লাগায়নি। সব ঋণ শোধে দিয়ে দিয়েছি।’
বিলাপ করতে করতে মা রোকেয়া বেগম বলেন, ‘বড় আদরের ছিল আমার সোহেল। চার মেয়ে আর এই একমাত্র ছেলেই ছিল আমার। আল্লাহ আমার ছেলেকে নিয়ে গেল। সরকার যেন আমাদের দিকে দেখে। সরকার ব্যবস্থা না নিলে ঋণশোধের আর কোনও উপায় থাকবে না।’
৭নং বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বার আব্দুল মান্নান বলেন, ছেলেটি খুবই ভালো ছিল। সংসারের অভাব দূর করতে কয়েক মাস আগে মালয়েশিয়া যায়। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেল। তার লাশ স্বজনদের কাছে এসেছে। এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। সেই সঙ্গে মালয়েশিয়া এবং বাংলাদেশ সরকারের কাছে তাদের জন্য আর্থিক সহযোগিতার দাবি জানাই। আর সেটি যেন সহজেই তারা পায়।
প্রসঙ্গত, গত ৭ এপ্রিল মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরের কাছের একটি সড়কে বাংলাদেশিসহ আরও কয়েকটি দেশের শ্রমিকরা কর্মস্থলে যাওার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশিসহ ১১ জন নিহত হন।