চট্টগ্রামে ঘূর্ণিঝড় ফণীর ঝুঁকিতে থাকা উপকূলীয় এলাকার ২৯ হাজার ২০০ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মো. দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত এলাকা, সীতাকুণ্ড, আনোয়ারা, বাঁশখালী ও দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের মানুষজনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়েছে।
মো. দেলোয়ার হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাত ৮টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসন সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকার মোট ২৯ হাজার ২০০ জনকে আশ্রয়কেন্দ্রে নিয়েছে। যারা আমাদের আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন, তাদের শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করছি আমরা।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফণীর প্রভাব চট্টগ্রামে কম হবে জেনে লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে আসছে না। তারপরও আমরা যেসব এলাকার বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে তাদের এলাকা থেকে সরিয়েছি। তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে। সন্দ্বীপ উপজেলার প্রায় ১০ হাজার লোককে আশ্রয়কেন্দ্রে আনা হয়েছে।’
এদিকে, চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে কর্মরত ডাক্তার-নার্সদের ছুটি বাতিল করেছে জেলা সিভিল সার্জন অফিস। ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী হতাহতদের সেবা দিতে ২৮৪টি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন আজিজুর রহমান সিদ্দিকী।
আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পরিস্থিতিতে সেবা দিতে আমাদের ২৮৪টি মেডিক্যাল টিম মাঠে কাজ করবে। এর মধ্যে ১৪ উপজেলায় ৫টি করে ৭০টি, ইউনিয়ন পর্যায়ে একটি করে ২০০টি এবং নগরীতে ১৪টি মেডিক্যাল টিম কাজ করবে। ২৮৪টি টিমে ডাক্তার-নার্স মিলে মোট ৮৫২ জনকে যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে ফণীর ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক জসিম উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের ৫১৬জন কর্মী মাঠে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছেন। ইতোমধ্যে আমাদের বেশ কয়েকটি টিম উপকূলীয় এলাকায় লোকজনদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে মাইকিং করছে; উপকূলীয় এলাকার মানুষজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিচ্ছেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের ২৭টি পানিবাহী গাড়ি, ৩০টি টানা গাড়ি, ৭২টি টু হুইলার ও ৮টি অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’
শুধু জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, সিভিল সার্জন অফিস নয়, ঘূর্ণিঝড় ফণীর ক্ষয়ক্ষতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। করপোরেশনের উদ্যোগে নগরীর ওয়াসার মোড় এলাকায় কন্ট্রোলরুম খোলা হয়েছে। এ ছাড়া, নগরীর উপকূলীয় ১১টি ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণসহ নানামুখী সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে তারা।
মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন নিজেই এসব কার্যক্রমের খোঁজখবর নিচ্ছেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার সময় মেয়র নগরীর পতেঙ্গা সি-বিচ এলাকা, ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের ফুলছড়ি পাড়া, জেলে পাড়া, ডেইল পাড়া, বিজয় নগর, লালদিয়ার চর, দক্ষিণ পাড়া পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি ঘূর্ণিঝড় ফণী আতঙ্কিত এলাকাবাসীকে সম্ভাব্য জলোচ্ছ্বাস ও দুর্যোগ মোকাবিলায় নানামুখী সচেতনতামূলক পরামর্শ দেন। তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে পরামর্শ দেন।