অবৈধভাবে খাল দখলের কারণে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী। তিনি বলেন, ‘খালের পাশে অবৈধ দখলই জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ। খালের পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের পাশাপাশি ড্রেনগুলো সঠিক ডিজাইন-ম্যাপ অনুযায়ী কাজ করা হলেই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মিলবে। তবে এর জন্য মানুষকে সচেতন হতে হবে। খালে ময়লা ফেলার কারণে জলাবদ্ধতা বেড়েই চলেছে। তাই জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পেতে হলে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।’
শনিবার (৪ মে) দামপাড়া আর্মি ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্প নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার ব্রিগেড। এতে শিগগির নগরীর খালগুলোর ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন আহমেদ তানভীর মাজহার সিদ্দিকী।
তানভীর মাজহার সিদ্দিকী বলেন, ‘মেগা প্রল্পের আওতায় খালগুলোর ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শিগগির শুরু করবে সেনাবাহিনী। এ অবৈধ দখল বা স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করার জন্য সিডিএ, সিটি করপোরেশন সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ ছাড়া, যত্রতত্র ময়লা ফেললে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে শিগগিরই ভূমি অধিগ্রহণ এবং রাস্তা নির্মাণের কাজ করা হবে। ৩৬টি খালকে আমরা তিনভাগে ভাগ করে কাজ করার পরিকল্পনা করেছি। এর মধ্যে ১৩টি খাল সংস্কার করা হয়েছে, ১০টি খাল সংস্কারের কাজ চলছে এবং বাকি খালগুলোর কাজ পরে করা হবে। আর জলাবদ্ধতামুক্ত করার জন্য ৪০টি রেগুলেটর বসানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘অনেক খাল থেকে ময়লা অপসারণ করা হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন পর আবারও খালগুলো ময়লায় ভরাট হচ্ছে। এক্ষেত্রে জনসচেতনতা জরুরি। এজন্য স্থানীয়ভাবে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে একাধিক কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের সমন্বয়ে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’