নুসরাত হত্যা: তিন আসামির তৃতীয় দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে

নুসরাত হত্যা মামলার তিন আসামি ফের রিমান্ডে

নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত তিন আসামিকে তৃতীয় দফা রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। একদিনের রিমান্ড শেষে শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন ও মো. জোবায়রকে বৃহস্পতিবার (৯ মে) বিকালে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক এই আদেশ দেন।

তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) পরিদর্শক মো.শাহ আলম এই তথ্য জানিয়েছেন।

পিবিআই পরিদর্শক শাহ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘নুসরাত হত্যা মামলার তিন আসামি শাহাদাত হোসেন শামীম, জাবেদ হোসেন ও মো. জোবায়েরকে মামলার আলামত উদ্ধার ও শনাক্তকরণের জন্য তৃতীয় দফা একদিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়। বুধবার (৮ মে) বিকালে রিমান্ডে থাকা আসামিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন দেওয়ার সময় আসামিরা একটি গ্লাসে করে কেরোসিন তেল ছিটিয়েছিল। সেই গ্লাসটি মামলার আলামত হিসেবে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় অধ্যক্ষের দফতরের সামনের ওয়াল কেবিনেটের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়।’

এর আগে তারা তিনজনই আদালতে স্বীকারোত্তিমূরক জবানবন্দি দিয়েছে। এই সময় নুসরাত হত্যাকাণ্ডের সময় বোরকা পরে থাকা শাহাদাত হোসেন শামীম ও যোবায়ের আহম্মদের দুটি বোরকা উদ্ধার করে পিবিআই।

সূত্র জানায়, নুসরাত হত্যা মামলায় এ পর্যন্ত ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। এই মামলার প্রধান আসামি অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১২ জন আসামি নুসরাত হত্যাকাণ্ডে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা ও দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তাদের মধ্যে সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া দুই তরুণীসহ পাঁচজন রয়েছে। অপর তিন আসামি সোনাগাজী পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাকসুদুর রহমান,মাদ্রাসার ইংরেজির প্রভাষক আফসার উদ্দিন ও মোহাম্মদ শামীম ওরফে শামীম এখনও রিমান্ডে রয়েছে।

প্রসঙ্গত, নুসরাত জাহান রাফি সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিমের পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে এর আগেও ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যায় নুসরাত। এ সময় তাকে কৌশলে একটি বহুতল ভবনে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে দাহ্য পদার্থ দিয়ে আগুন দেওয়া হয়। বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান।

এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।