রাঙামাটিতে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাস টার্মিনালটি অযত্নে ও অবহেলায় পড়ে আছে। নানা অভিযোগ এনে বাস মালিক সমিতি টার্মিনালটি ব্যবহার করছে না। এর ফলে যেখানে সেখানে বাস রাখার কারণে একদিকে যেমন শহরের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, তেমনি অন্যদিকে শহরের সৃষ্টি হয় যানজট।
রাঙামাটি থেকে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বাস রাখার, টিকেট সংগ্রহের ও যাত্রী সেবার লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড শহরের ফিসারি বাঁধ এলাকায় ১৯৯৪ সালে বাস টার্মিনাল নির্মাণের কাজ হাতে নেয়। ২০০১ সালে প্রায় ৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে টার্মিনালের নির্মাণ কাজ শেষ হয়। এরপরও বাস মালিক সমিতি টার্মিনালটি ব্যবহার করেনি। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর শহরের সব বাস ওই টার্মিনালে রাখা ও টার্মিনাল থেকে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার টিকিট বিক্রি শুরু হয়। কিন্তু ২০১২ সালে টার্মিনালের বিভিন্ন জায়গা অবৈধ দখলদারদের হাতে চলে যাওয়ার অভিযোগ এনে আবারও টার্মিনালটি ব্যবহার না করার ঘোষণা দেয় বাস মালিক সমিতি ও শ্রমিক নেতারা। সে থেকে আজ পর্যন্ত টার্মিনাল থেকে কোনও বাস যাওয়া আসা করছে না।
বাস চালকরা জানান, ‘টার্মিনালের আশপাশে যেসব অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে সেগুলোর কারণে আমাদের নানা সমস্যা হয়। টার্মিনালে বাস রাখার কোনও পরিবেশ নেই। এখানে বাস রাখলে যন্ত্রপাতি চুরি হয়। কোনও কারণে এসব বসতীতে আগুন লাগলে আমাদের বাসগুলো পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।
স্থানীয়রা জানান,বাস কাউন্টারগুলো সব এক জায়গায় হলে যাত্রীদের উঠা নামা সুবিধার হতো। শহরের বিভিন্ন এলাকায় কাউন্টার থাকায় ও বিভিন্ন স্থানে যাত্রী উঠানামা করানোর কারণে যানজট সৃষ্টি হয়। এসব কারণে পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত রাঙামাটি শহরের সৌন্দর্য্যও নষ্ট হচ্ছে। তারা আশা করছে প্রশাসনও বিষয়টির দিকে সু-নজর দিবে।
রাঙামাটি বাস মালিক সমিতির সভাপতি মঈন উদ্দীন সেলিম বলেন,‘পর্যটন নগরী হিসেবে আধুনিক টার্মিনাল প্রয়োজন। ভূমিদস্যুদের কবলে পরে আগের টার্মিনালের আশেপাশের যায়গাগুলো দখল হয়ে গেছে। ওই এলাকা এখন মদকসেবীদের দখলে চলে গেছে।এসব কারণে ওই টার্মিনালে বাস রাখা নিরাপদ না। বর্তমানে যাত্রী সেবার নূন্যতম সুযোগ সেখানে নেই।
রাঙামাটি বাস টার্মিনালের ইজারাদার আব্দুস সালাম বলেন,‘ভূমির মালিক ও উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে বসে যৌথভাবে এলাকাটি দখলমুক্ত করতে পারলে ভালো হতো। পরে কিছু সংস্কার করা হলে সব বাস এক জায়গায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।’
রাঙামাটি সনাকের সদস্য মো. আলী বলেন,‘বিপুল অর্থ ব্যয় করে যে টার্মিনালটি করা হলো কিন্তু সেখানে কোনও বাস রাখা হচ্ছে না। যেখানে সেখানে বাস রাখার ফলে পর্যটন শহর হিসেবে রাঙামাটি তার সৌন্দর্য্য হারচ্ছে। আমি মনে করি প্রশাসন, ইজারাদার, বাস মালিক সমিতি ও ভূমির মালিক একসঙ্গে বসলে এই সমস্যার সমাধন করা সম্ভব।
রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন, টার্মিনালটি পৌরসভাকে দিয়ে দিলে আমার সাধারণ মানুষকে যাত্রী সেবা দিতে প্রস্তুত আছি। দখলদারমুক্ত করে টার্মিনালটি শুরু করার ব্যাপারে পৌরসভা ভূমিকা রাখতে চায় বলে তিনি জানান।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে সদস্য (প্রশাসন) আশীষ কুমার বড়ুয়া বলেন, ‘এই এলাকার সুবিধার জন্য উন্নয়ন বোর্ড এটি করে দিয়েছে। কিন্তু কেন বাস কাউন্টারগুলো সেখানে থাকছে না, সে বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। টার্মিনালটি চালুর ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন ভূমিকা রাখলে আবারও টার্মিনালটি চালু করা সম্ভব হবে। বাস টার্মিনালটি ব্যবহার শুরু হলে ইজারাদারও লাভবানের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় কোষাগারেও আয় বাড়তো বলে জানালেন উন্নয়ন বোর্ডের এই কর্মকর্তা।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক, একেএম মামুনুর রশীদ বলেন,‘বিষয়টি আমারও নজরে এসেছে ।বাসগুলো টার্মিনালে না গিয়ে রাস্তার মধ্যে রাখা হচ্ছে, এতে শহরের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে টার্মিনালটি যাতে পুরোপুরি সক্রিয় করা যায় সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানালেন জেলা প্রশাসক।’
জেলার দশটি উপজেলা ও চট্টগ্রাম, বান্দরবান, খাগড়াছড়িসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন জেলা থেকে প্রায় শতাধিক বাস শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে ছেড়ে যাচ্ছে।