অভিযুক্ত অপর দুজন হলেন- গুইমারা উপজেলার বাইল্যাছড়ি এলাকার নির্মল ত্রিপুরার স্ত্রী রুমি ত্রিপুরা এবং একই এলাকার বিজয় মোহন ধামাইয়ের স্ত্রী শিরিন বালা ত্রিপুরা।
অভিযোগে জানা যায়, খাগড়াছড়ি জেলার গুইমারা উপজেলার গুইমারা ইউনিয়নের বাইল্যাছড়ি রাবার বাগান এলাকার বাসিন্দা চির লক্ষী ত্রিপুরার ছেলে সজিব ত্রিপুরা (২১) একজন চাকরি প্রার্থী। তার চাকরির জন্য এলাকার শিরিন বালা ও গুইমারা উপজেলার চেয়ারম্যান উশ্যেপ্রু মারমাসহ একাধিকবার খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান বিউটি রানী ত্রিপুরার বাসায় যায়। সজিবকে এনজিওতে ভালো বেতনের চাকরির কথা বলে ২ লাখ ৭০ হাজার ঘুষ চান বিউটি রানী।
চাকরির আশায় সজিবের বাবা ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর এক লাখ এবং ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল আরও এক লাখসহ মোট দুই লাখ টাকা ঘুষ দেন বিউটি রানীকে।
বিউটি রানী প্রথমে গোল্ডেন এনভায়রনমেন্ট ডেভেলফমেন্ট ফাইন্ডেশন নামে একটি এনজিওর নিয়োগপত্র এনে দেন সজিবকে। নিয়োগপত্রে দেখা যায়, সজিবকে সংস্থাটি গুইমারা ইউনিয়ন পরিষদের “অ্যাসিস্ট্যান্ট ইউনিয়ন অফিসার” পদে নিয়োগ দেওয়া হয় এবং প্রশিক্ষণ ছাড়া ৮ হাজার ও প্রশিক্ষনসহ ১৪ হাজার ৫০০ টাকা বেতন নির্ধারণ করা হয়।
সংস্থাটির আঞ্চলিক পরিচালক মো. রওশানুল আলম ও উপ-পরিচালক মো. গোলাম রসুল স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্রে আরও দেখা যায়, সজিবকে ২০১৮ সালের ৬ থেকে ৯ মে’র মধ্যে রাঙামাটি কার্যালয়ে যোগদান করতে বলা হয়। কিন্তু সজিব রাঙামাটি গিয়ে গোল্ডেন এনভায়রনমেন্ট ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন নামে কোনও সংস্থা খুঁজে পাননি।
বিষয়টি নিয়ে চির লক্ষী তার ছেলে সজিব ও শিরিন বালা ভাইস চেয়ারম্যান বিউটি রানীর সঙ্গে ফের যোগাযোগ করেন। পরে বিউটি রানী লেডফোর্স সিকিউরিটি সার্ভিস লিমিটেড নামে সংস্থার ডাইরেক্টর হিউম্যান রিসোর্স স্বাক্ষরিত আরেকটি নিয়োগপত্র দেন সজিবকে। এই নিয়োগপত্রে সজিবকে এমএলএসএস পদে নিয়োগ এবং মাসিক বেতন ১১ হাজার ২০০ টাকা ধরা হলেও কবে, কোথায় এবং কখন যোগদান করতে হবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ছিল না।
অভিযোগে আরও জানা যায়, ছেলের চাকরির জন্য ঘুষের টাকা জোগাড় করতে চির লক্ষী এক লাখ টাকায় সেগুন বাগান, স্বর্ণ ও গয়না বিক্রি করেছিলেন। সজিবকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিউটি রানী এখন পর্যন্ত দুই লাখ টাকা নিয়েছেন। এখন আরও ৭০ হাজার টাকা চেয়েছেন তিনি। সেই টাকা না দেওয়ায় সজিবের চাকরি এখনও আটকে আছে বলে অভিযোগে জানা যায়।
এতে নিরুপায় হয়ে সজিবের বাবা চির লক্ষী জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির মাধ্যমে দুদকে অভিযোগ করে চিঠি দেন। দুদক তদন্ত শুরুর সঙ্গে সঙ্গে বিউটি রানী, উশ্যেপ্রু মারমা, শিরিন বালা ও রুমি ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন চির লক্ষীকে।
চির লক্ষী দুদকের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, দুদকের কার্যকরী হস্তক্ষেপে অভিযুক্তরা এখন তার দরজায় কড়া নাড়ছে। তার এখন একটাই দাবি, ছেলের চাকরি হোক বা না হোক বিউটি রানী লোকজনের সঙ্গে যে দুর্নীতি করেছে তার শাস্তি হোক।
এ ব্যাপারে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আবুল হাশেম তদন্তের দায়িত্বভার পাওয়ার কথা উল্লেখ করলেও তদন্ত কতটুকু গড়িয়েছে, তা বলতে রাজি হননি।