বাদীর আইনজীবী মাখন লাল সাহা জানান, আবদুল্লাহপুর গ্রামের জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে ২৫ জুন (মঙ্গলবার) লক্ষ্মীপুরের ডিসি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তাদের নামে সমন জারি করেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, জসিম উদ্দিন সদর উপজেলার আবদুল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাঠদান ও নৈশপ্রহরীর কাজ ফাঁকি দেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছিলেন। বিদ্যালয়ের সভাপতির স্বাক্ষর ছাড়াই ২০১৮ সালের বিভিন্ন সময়ে ১০ মাসের বেতন বেআইনিভাবে শিক্ষকরা ও নৈশপ্রহরী তুলে নিয়েছেন। এছাড়া জুন ও জুলাই মাসে কোনও প্রকার স্বাক্ষর ছাড়াই নৈশপ্রহরী বেতন উত্তোলন করে নিয়েছেন। তাদের এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় সভাপতি পদ থেকে বাদীকে সরিয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।
এজাহারে আরও বলা হয়, জেলা প্রশাসক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, সহকারী জেলা শিক্ষা অফিসার ও সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার যেন সভাপতি পদ থেকে বাদীকে সরিয়ে দিতে না পারেন, সেজন্য তিনি আদালতের দারস্থ হন।
সমন জারিপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন−জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু জাফর মো. সালেহ, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মুহাম্মদ মোছাদ্দেক হোসেন, সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্লা, সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার হাসিনা আক্তার, আবদুল্লাহপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ তোফায়েল আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সামছুন নাহার, সহসভাপতি আবদুস সহিদ, সহকারী শিক্ষক মো. নূরুন্নবী, শারমিন আক্তার, জান্নাত ফেরদৌস, লুৎফুর নাহার, মনির হোসেন, নৈশপ্রহরী সাইফুল ইসলাম ও পরিচালনা কমিটির সদস্য মর্জিনা আক্তার।
জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল জানান, মামলা ও সমন জারির বিষয়ে এখন পর্যন্ত তার কাছে কোনও কাগজপত্র পৌঁছায়নি এবং কেউ তাকে অবহিতও করেননি। তবে, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন।