গত ১৯ জুন ফেনীর সোনাগাজীতে নুর আলম নামে এক ইজিবাইক চালককে গলা কেটে হত্যা করা হয়। বিয়ের টাকা জোগাড় করার জন্য চালককে হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছিল বলে স্বীকার করেছে মামলার প্রধান আসামি মেহেদী হাসান জনি। হত্যাকাণ্ডে তার সঙ্গে আরও দুইজন অংশ নিয়েছে বলেও সে স্বীকার করেছে। সোমবার বিকালে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইনের আদালতে মেহেদি হাসান জনি এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সোনাগাজী মডেল থানার এসআই আনোয়ার হুসেন এই তথ্য জানিয়েছেন ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হুসেন বলেন,‘মেহেদী হাসান জনি আদালতে নুর আলমকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। ফেসবুকের মাধ্যমে ঢাকার একটি মেয়ের সঙ্গে হাসানের প্রেমের সম্পর্ক হয়। মেয়েটি তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু বড় দুই ভাই অবিবাহিত থাকায় পরিবার তাকে বিয়ে করাতে রাজি হয়নি। হাসান ওই মেয়েকে বিয়ে করার জন্য ফেনী শহরে একটি বাসা ভাড়া নেয়। অন্যদিকে ইজিবাইক চালানো নিয়ে তার বন্ধু মিনহাজের সঙ্গে নূরের পূর্ব বিরোধ ছিল। বিয়ের টাকা জোগাড়ের জন্য হাসান দুই বন্ধুকে নিয়ে মিনহাজকে হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে। গত ১৮ জুন (মঙ্গলবার) কুঠিরহাট বাজারে এসে হাসান তার দুইবন্ধু মিনহাজ ও শাকিলকে নিয়ে নূরকে হত্যার পরিকল্পনা করে। পরে ১৯ জুন বুধবার রাত ৮টার দিকে মো. হাসান ও তার বন্ধু শাকিল কুঠিরহাট বাজার থেকে ১৫০ টাকায় নুর আলমের ইজিবাইকটি ভাড়া করে। পথে তাদের আরেক বন্ধু মো. মিনহাজও তাদের সঙ্গে ওই গাড়িতে ওঠেন। ইজিবাইকটি মিয়াজিঘাট সেতু পার হওয়ার পর পেছন থেকে ধারালো ছুরি দিয়ে নুর আলমের গলা কেটে দেয় মেহেদি হাসান জনি। এরপর তারা তিনজন মিলে অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসময় নুর আলম চিৎকার করতে করতে গাড়ি চালিয়ে প্রায় তিনশ'গজ দূরে একটি দোকানের সামনে গিয়ে পড়ে যায়। তখন স্থানীয় লোকজন চলে আসায় তারা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে মেহেদী হাসানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে আদালতে হাজির করা হলে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এর আগে গত ২২ জুন মো. মিনহাজ নামে আরেক আসামিকে গ্রেফতার করা হলে সেও তিনজনের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এই ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া তিনজনের মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।