জানা যায়, ১৯৬৩ সালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর প্রথম সেতুটি নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৪৬ বছরের অধিক বর্তমান সেতুটির বয়স হওয়ায় ভারী যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। গত মাসের ১৮ জুন বিকালে সেতুটির পূর্বাংশের একটি রেলিং এবং ফুটপাতের একাংশ ধসে যায়। এর পর থেকে সেতুটির ওপর দিয়ে মাঝারি এবং ভারী সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর বিকল্প পথে সরাইল-নাসিরনগর এবং হবিগঞ্জের লাখাই সড়ক হয়ে যানবাহনগুলো চলাচল করে।
পরে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি মেরামত করে তার ওপর একটি বেইলি সেতু নির্মাণ করে ২৪ জুন আবারও তা খুলে দেওয়া হয়। প্রথম সেতুর পূর্বপাশে তিতাস দ্বিতীয় সেতুটির ৮২ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর নির্মাণকাজ চলছিল ঢিমেতালে। প্রথম সেতুটি বিকল হওয়ার পর নবনির্মিত সেতুটির অবশিষ্ট কাজ দ্রুতগতিতে শেষ করে তা যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
এদিকে দ্বিতীয় তিতাস সেতুটি খুলে দেওয়ায় সন্তোষ জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রী ও চালকরা। বাসযাত্রী লিটন দাস তার প্রতিক্রিয়ায় জানান, নতুন সেতুটি খুলে দেওয়ায় আমরা অত্যন্ত খুশি। এখন ঢাকা থেকে খুব সহজে হবিগঞ্জ এবং সিলেটে পৌঁছানো যাবে।
একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আমিনুল হক জানান, নতুন সেতুটি চালু হওয়ায় আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। এখন আমাদের শ্রম ও কর্মঘণ্টা বাঁচবে।
বাসচালক রতন বিশ্বাস বলেন, আমাদের প্রত্যাশার সঙ্গে অবশেষে প্রাপ্তির মিল হলো। সেতুটি দ্রুত চালু হওয়ায় আমরা বেশ খুশি। সেতুটি খুলে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
লরি চালক আবুল খায়ের বলেন, আগের সেতুতে উঠলে বুক কাঁপতো, কখন ভেঙে পড়ে। এখন নতুন সেতু চালু হওয়ায় সেই ভয় কেটে গেছে। তিনি জানান, আরও আগে সেতুটি করা হলে জনগণ ভোগান্তির শিকার হতো না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম আল মামুন বলেন, বর্তমান সেতুর ঝুঁকির বিষয় বিবেচনা করেই দ্বিতীয় সেতুটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। সেতুটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৯ কোটি ১৩ লাখ টাকা।
তিনি আরও জানান, ২০১৭ সালের ১০ জুলাই সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি সেতুটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের ৬ মাস পর আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সেতুটি খুলে দেওয়া হয়।