কমছে না বৃ‌ষ্টি, আতঙ্কে পাহাড়ের বাসিন্দারা

পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসবান্দরবানে গত চারদিন ধরে চলছে টানা বৃষ্টিপাত। শ‌নিবার (৬ জুলাই) রাত থে‌কে শুরু হওয়া বর্ষণ মা‌ঝে মা‌ঝে কিছুক্ষ‌ণের জন্য থাম‌লেও পুনরায় শুরু হচ্ছে বৃষ্টি। এরই মধ্যে সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বেড়েছে। টানা বর্ষ‌ণের কারণের পাহা‌ড়ের মা‌টি নরম হ‌য়ে গেছে। সোমবার পাহাড় ধ‌সের কারণে  রুমা ও থান‌চির সঙ্গে সড়ক যোগা‌যোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ফ‌লে যতই বৃ‌ষ্টি হ‌চ্ছে, ততই পাহাড় ধ‌সের শঙ্কা বাড়ছে। পাশাপাশি আতঙ্কও বাড়ছে পাহা‌ড়ের পাদ‌দে‌শে বসবাসকারীদের ম‌নে।

পাহা‌ড়ের পাদ‌দে‌শে বসবাসকারী নুরুল ইসলা‌ম বলেন, ‘ঘর ছে‌ড়ে পরিবার  নি‌য়ে আশ্রয়কে‌ন্দ্রে যাওয়া সম্ভব নয়। আবার ঘ‌রে থাকাটাও নিরাপদ না। এদিকে বৃ‌ষ্টিও কম‌ছে না। তাই আতঙ্কে আছি।’

পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসইসলামপু‌রের ইব্রা‌হি‌ম ব‌লেন, ‘দি‌নের বেলায় বৃ‌ষ্টি হ‌লে বাই‌রে ব‌সে থা‌কি। কিন্তু সন্ধ্যার পর থে‌কেই আতঙ্ক বাড়‌তে থা‌কে। রা‌তে বৃ‌ষ্টি শুরু হ‌লে আর ঘুম হয় না ভ‌য়ে।’

তি‌নি ব‌লেন, ‘বৃ‌ষ্টির সম‌য়ে ক‌য়েক‌দি‌নের জন্য নিজ ঘর ছে‌ড়ে আশ্রয়কে‌ন্দ্রে যাওয়াটা কষ্টকর। সরকার য‌দি স্থায়ীভা‌বে আবাস‌নের ব্যবস্থা ক‌রে ত‌বেই আমা‌দের কষ্ট দূর হ‌বে।’

বৃষ্টিতে বেড়েছে নদীর পানিঝুঁ‌কিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী ও প্লা‌বিত এলাকার ৮টি আশ্রয়‌কে‌ন্দ্রে আশ্রয় নি‌য়ে‌ছে প্রায় ২০০ প‌রিবার। এছাড়া ১২৬টি আশ্রয়কে‌ন্দ্রে  কয়েক‘শ প‌রিবার আশ্রয় নি‌য়ে‌ছে।

চার‌দিন ধরে বান্দরবানে টানা বৃ‌ষ্টি হ‌লেও কমার কোনও সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। মঙ্গলবার (৯ জুলাই) বান্দরবান-চট্টগ্রা‌মের প্রধান সড়‌ক ডুবে যাওয়ায় সারা‌দে‌শের সঙ্গে সড়ক যোগা‌যোগ বি‌চ্ছিন্ন হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছে। এছাড়া রুমা, থানচি, লামা ও আলীকদ‌মে বন্ধ হ‌য়ে গে‌ছে নৌ চলাচল। এ‌তে ক‌রে জেলার দুর্গম ইউ‌নিয়‌নের সঙ্গেও যোগা‌যোগ বন্ধ হ‌য়ে গে‌ছে। বৃষ্টির জন্য মোবাইলের নেটওয়ার্ক না থাকায় দুর্গম ইউয়নের সঙ্গে যো‌গা‌যোগ করা যা‌চ্ছে না। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে থান‌চির দুর্গম এলাকায় আটকা পড়েছেন ২৫ পর্যটক।

পাহাড় ধসে সড়ক যোগাযোগ বন্ধসাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পা‌নি বৃ‌দ্ধি পাওয়ায় বান্দরবা‌ন সদ‌রের আর্মিপাড়া, ইসলামপুর, ক্যা‌চিংঘাটা ও লামায় বাজার এলাকা, লাইন‌ঝি‌ড়ি এলাকাসহ বি‌ভিন্ন এলাকার নিম্নাঞ্চ‌ল প্লা‌বিত হ‌চ্ছে।

বেড়েছে নদীর পানিবান্দরবান জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম ব‌লেন, ‘পাহাড়ের পাদদেশে না থাকার জন্য এলাকাবাসী‌দের নিরুৎসা‌হিত কর‌ছি। সরকারের এক‌টি ব্যবস্থাপনা র‌য়ে‌ছে, যে‌টি দু‌র্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণাল‌য়ের মাধ্য‌মে বাস্তবা‌য়িত হ‌চ্ছে। যা‌দের নিজস্ব দুই শতক জ‌মি আ‌ছে, তা‌দের‌কে সরকারিভা‌বে বাড়ি নির্মাণ ক‌রে দেওয়া হ‌চ্ছে। বান্দরবান জেলায় এবা‌রের বরাদ্দ দি‌য়ে আমরা বেশ‌কিছু বাসগৃহ নির্মাণ ক‌রে‌ছি। আশা কর‌ছি এ কার্যক্রম চলমান থাক‌লে পাহাড়ের পাদ‌দে‌শে যারা ঝুঁ‌কি নি‌য়ে থাকছেন তা‌দের পুনর্বা‌সিত কর‌তে সক্ষম হবো।’