কোরবানি ঈদকে টার্গেট করে মাঝারি ধরনের দেশীয় গরু কিনে নিজেস্ব পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করছেন ফেনীর স্থানীয় খামারিরা। গরুর ভালো দাম পাওয়ার আশা করছিলেন তারা। তবে গোখাদ্যের চড়া দাম আর ভারত থেকে গরু আসায় শেষ পর্যন্ত লাভ হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কায় এসব খামারিরা। এবার স্থানীয় খামারগুলোতে অতিরিক্ত গরু আছে, তাই কোরবানির জন্য পশু আমদানির প্রয়োজন হবে না বলে মনে করছে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ।
জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় থেকে জানা যায়, ফেনীর ছয়টি উপজেলায় ছোট-বড় ৭ শ’ খামারে গরু পরিচর্যার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। এসব খামারে আসন্ন কোরবানির ঈদের জন্য শাহী, সিন্দি ও শংকরসহ বিভিন্ন জাতের গরু মোটাতাজা করছেন খামারিরা। খামারিরা গরুগুলো কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ ও ভেজাল খাবার না খাইয়ে গরু মোটাতাজাকরণের জন্য স্থানীয় জাতের ঘাস, খড়কুটো, ভুষি ও ছোলা খাইয়েছেন।
এ ব্যাপারে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো আনিসুর রহমান জানান, ফেনীর খামার মালিকরা স্থানীয়ভাবে কোরবানির পশু ও মাংসের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে। তাদের এ উদ্যোগ কোরবানির পশু আমদানি নির্ভরতাও কমাবে। এছাড়াও স্থানীয় খামার শিল্পের প্রসার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি আরও জানান, জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত এসব খামার পরিদর্শন করছেন এবং খামারিদের গরু মোটাতাজাকরণে বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন।’
প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, ফেনীতে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ৮৫ হাজার। স্থানীয় খামারগুলোতে কোরবানির উপযোগী গরু রয়েছে ৮৭ হাজারেরও বেশি। চাহিদার তুলনায় স্থানীয় খামারগুলোতে অতিরিক্ত কোরবানির গরু থাকায় ফেনীতে এ বছর বাইরে থেকে পশু আমদানির প্রয়োজন হবে না।
ফেনীর পরশুরামের মজুমদার এগ্রো খামার মালিক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন মজুমদার জানান, কোরবানির পশুর পেছনে তারা ব্যাংক ঋণসহ অনেক টাকা বিনিয়োগ করেছেন। স্থানীয়ভাবে কোরবানির চাহিদা মেটানোর মতো যথেষ্ট পশু থাকা সত্ত্বেও এক শ্রেণির অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ী গরু আমদানি করছেন। আমদানি করা এসব গরু স্থানীয় বাজারগুলো দখল করে নিলে খামারিরা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। স্থানীয় খামার শিল্পের প্রসার এবং এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার স্বার্থে গরু আমদানি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়াসহ সহজশর্তে ও কম সুদে ঋণ দিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিরোগ নির্ণয় কেন্দ্র, ফেনীর মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আবদুর রহিম জানান, দেশীয় খামারিদের পশুগুলোর রোগের ঝুঁকি না থাকায় এগুলোর মাংস নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত। আমদানি করা পশুর শরীরে নির্দিষ্ট মেয়াদের বিশেষ ইনজেকশন দেওয়া হয়। এসব কারণে ওই পশুর মাংস মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ওহিদুজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রতিবারের মতো এবারও বিজিবি ভারত সীমান্ত দিয়ে গরু প্রবেশ রোধে সতর্ক অবস্থানে থাকবে।’