জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শওকত হোসেন জানান, বর্তমানে ছয়জন রোগী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন। তাদেরকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কারও শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে।
মশারির বিষয়টি তার জানা ছিল না। বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিনিধির মাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তিনি তিনি তাৎক্ষণিক মশারির ব্যবস্থা করার জন্য হাসপাতালের সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলার নোয়াগাও ইউনিয়নের জামাল হোসেন (১৯), বিজয়নগর উপজেলার গঙ্গানগর গ্রামের জসিম মিয়া (২১), চরইসলাম পুর গ্রামের সাগর মিয়া (১৫), নবীনগর উপজেলার মেরকোটা গ্রামের আবুবক্কর (১৭), ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের শান্তিভাগ এলাকার কামাল খান (২৪) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার ভাটপাড়া গ্রামের কাউসার মিয়া (২৫)। এরমধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্ত জামাল হোসেন ঢাকায় একটি জুতার দোকানে কর্মরত ছিলেন। জসিম মিয়া ছিলেন, রাজধানীর ফার্মগেট এলাকার একটি ওষুধের দোকানের কর্মচারী।
সাগর মিয়া ঢাকায় ওয়ারীতে হোটেল রেস্টুরেন্টে কর্মরত ছিলেন। আবুবক্কর রাজধানীর মালিটুলা এলাকায় গার্মেন্টসে কর্মরত ছিলেন। কামাল খান, ঢাকায় কাকরাইলে এবি ব্যাংকে গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কাউসার ঢাকায় সিদ্দিকনগরে জুতার কারখানায় কাজ করতেন।
ডেঙ্গু আক্রান্ত প্রত্যেকেই জানান, তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তারা বাড়ি ফিরে আসেন। চিকিৎসকের শরনাপন্ন হয়ে বুঝতে পারেন, তারা ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত। পরে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি হন।
এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য মশারির ব্যবস্থা না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাসপাতালে আসা রোগীসহ তাদের স্বজনেরা। এরমধ্যে শাহ আলম জানান, আমি আমার অসুস্থ বাবাকে নিয়ে কসবা থেকে এসে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা করাচ্ছি। কিন্তু আমার বাবা যে ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন (মেডিসিন ওয়ার্ড) সেখানে একইসঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদেরকেও রাখা হয়েছে। কোনও ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নিয়ে অর্থাৎ মশারি ছাড়া একই ওয়ার্ডে সব রোগীদের রাখা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিক্যাল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ডা. মো. আবু সাঈদ জানান, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের ভর্তির সঙ্গে সঙ্গে মশারির ব্যবস্থা করতে হবে।