মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। পুরুষ ওয়ার্ড, মহিলা ওয়ার্ড, কেবিন ছাড়িয়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা চলছে হাসপাতালের বারান্দা এবং ওয়ার্ডের ফ্লোরে।
বেশ কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেন, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর গত তিন-চার দিন ধরে স্যালাইন কিনতে হচ্ছে হাসপাতাল চত্বরের দোকান থেকে। হাসপাতাল থেকে গ্যাস্ট্রিকের ওমিপ্রাজল আর প্যারাসিটামল ছাড়া কিছুই দেওয়া হচ্ছে না। বাকি সব ওষুধ রোগী ও তাদের স্বজনদের বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
চাঁদপুর সদরের লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন থেকে আসা রোগী নাহিদ হাসান বলেন, গত চার দিন হলো আমি সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। এই চার দিনে পাঁচটি স্যালাইন বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনেছি। হাসপাতাল থেকে শুধু দেওয়া হয়েছে প্যারাসিটামল আর গ্যাস্ট্রিকের টেবলেট।
একই কথা জানালেন ফরিদগঞ্জ থেকে আসা জিসান। তিনি বলেন, গতকাল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। স্যালাইন বাইরে থেকে কিনে আনতে হয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা সরকারি হাসপাতালে ফ্রি করা হয়েছে। তাদের জন্য নরমাল স্যালাইন সরকারি হাসপাতালে ফ্রি দেওয়ার কথা।
পরে মেডিসিন স্টোরে গিয়ে দেখা যায় সেখানে অনেক স্যালাইনের বোতল পড়ে আছে। এ সময় ছবি তুলতে গেলে ওয়ার্ড ইনচার্জ সবুজ আপত্তি জানান। পরে তার কাছে সাপ্লাই সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের আছে কিন্তু সীমিত। ধরুন, আজকে আমাদের রোগী আছে ২৮ জন। আর আমাকে গত পরশু (রবিবার) স্যালাইন দেওয়া হয়েছে মাত্র ২৫টি। আমি যদি সবাইকে স্যালাইন দিতে যাই, তাহলে আরও বেশি লাগবে।
ডেঙ্গু আক্রন্তরা সবাই বাইরে থেকে স্যালাইন কিনে এনেছেন, এর জবাবে তিনি বলেন, যে ২৫টি স্যালাইন দিয়েছে তার মধ্যে ১০-১২টি স্যালাইন এখনো রয়েছে। সবাইকে দেওয়া সম্ভব না। যারা খুব বেশি অসহায় তাদের স্যালাইন দিচ্ছি। আর যাদের সামর্থ্য আছে তাদের বাইরে থেকে আনার জন্য বলা হচ্ছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আনোয়ারুল আজিম বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শমতে ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যে বলেছে স্যালাইনের সাপ্লাই নেই, এটি ভুল। ডেঙ্গু আক্রান্তদের জন্য স্যালাইন ছিল না, তবে আমরা নিজস্ব অর্থায়নে এটি রোগীদের দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।
প্রসঙ্গত, চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে গত এক মাসে ৮৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে মঙ্গলবার পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ২৪ জন। অন্যরা চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।