গুলিবিদ্ধ ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ হাসান (২২)। তিনি শাহপরীর দ্বীপের মাঝার পাড়ার জমির হোসেনের ছেলে। অন্য আহতরা হলেন—নৌকার মালিক মোহাম্মদ পুতিয়া, তার ছেলে মোহাম্মদ ওসমান ও আবদুল হাফেজ।
ঘটনার সময় হাসানের সঙ্গে থাকা আবদুল হাফেজ বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে একটি নৌকায় আমরা চার মাঝিমাল্লা শাহপরীর দ্বীপ জেটির পূর্ব পাশে মাছ ধরতে যায়। নাফ নদীতে জাল ফেলতে থাকি। রাত সাড়ে ৩টার দিকে হঠাৎ বিজিপির ছয়-সাত জন সদস্য একটি স্পিডবোটে বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে নির্বিচারে গুলি ছুড়তে শুরু করেন। এতে গুলিবিদ্ধ হন মোহাম্মদ হাসান, বাকি তিন জন গুলিবিদ্ধ না হলেও সামান্য আহত হই।’
আবদুল হাফেজ আরও বলেন, ‘শনিবার (১০ আগস্ট) সকালে গুলিবিদ্ধ জেলেকে উদ্ধার করে টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে কক্সবাজারে পাঠান। সে এখন কক্সবাজার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. জাকারিয়া মাহামুদ বলেন, ‘শনিবার সকালে এক যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার পিঠে দুটি গুলির আঘাত রয়েছে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।’
সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নুরুল আমিন বলেন, ‘নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় বাংলাদেশের জলসীমায় ঢুকে মিয়ানমারের বিজিপি সদস্যরা জেলেদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালিয়েছেন। এতে এক জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে স্থানীয়দের কাছে শুনেছি।’
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রবিউল হাসান বলেন, ‘নাফ নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া একটি নৌকার ওপর গুলি চালিয়েছে বিজিপি। এতে এক জেলে গুলিবিদ্ধি হয়েছেন। এ ব্যাপারে খোজঁ নেওয়া হচ্ছে।’
টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান বলেন, ‘মাছ শিকারে যাওয়া এক জেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর এইমাত্র শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’