কুমিল্লা কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আইয়ুব হোসাইন খান জানান, পাত্রে পানি দিয়ে সবজি চাষকে হাইড্রোপনিক পদ্ধতি বলে। নগরীর বাসা-ফ্ল্যাটের বারান্দা ও করিডরে এই পদ্ধতিতে সবজি চাষ করা যাবে। এতে বিশুদ্ধ সবজি মিলবে। এসব সবজি গাছে পোকার আক্রমণ ও রোগ কম হয়। এ পদ্ধতিতে শসা, করলা, লেটুস ও চাল কুমড়া ভালো উৎপাদন হয়। খরচও খুব বেশি নয়।
তিনি বলেন, প্লাস্টিকের একটি বাক্সে পানি রেখে তার ওপর কর্কশিট দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। কর্কশিট ছিদ্র করে তাতে ফোম দিতে হয়। ফোমে চারা লাগানো হয়। মূল বিষয়টি হচ্ছে উদ্ভিদ মাটি থেকে যে ১৬টি উপাদান গ্রহণ করে তা পানিতে মেশাতে হবে। সেগুলো স্টক সলিউশন এ ও বি নামে ঢাকায় পাওয়া যায়। কুমিল্লা কৃষি গবেষণা কেন্দ্রেও এসব সলিউশন পাওয়া যাবে।
তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিকের একটি বাক্সের দাম পড়বে ৩০০ টাকা, ককসিট ও ফোম ১৫০ টাকা, স্টক সলিউশন এ ও বি ৮০০ টাকা। একটি প্লাস্টিকের বক্সে ছয়টি চারা লাগানো যাবে। উৎপাদন সময় ও সবজির স্বাদ মাটিতে লাগানো সবজির মতোই।
কুমিল্লা নগরীর কাপ্তানবাজার এলাকার সৌখিন সবজি চাষি নজরুল ইসলাম শাহীন বলেন, ‘মাটি ছাড়া সবজি চাষের আগ্রহ দীর্ঘদিনের। ইউটিউবের মাধ্যমে কিছু ধারণা নিয়েছি। তবে কুমিল্লায় সরাসরি কোনও কৃষিবিদের কাছ থেকে পরামর্শ পেলে আরও ভালো হতো।’
কুমিল্লা কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ওবায়দুল্লাহ কায়সার বলেন, কুমিল্লায় মাটি ছাড়া সবজির চাষের বিষয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। কুমিল্লা কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে এই পদ্ধতিতে চাষ করা হচ্ছে। কেউ এই পদ্ধতিতে চাষে আগ্রহী হলে আমরা পরামর্শ দেবো।’