আসামিকে ছোড়া গুলি লাগলো শিশুসহ দু’জনের গায়ে

কুমিল্লাকুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আসামিকে ধরতে গিয়ে পুলিশের ছোড়া গুলিতে এক শিশুসহ দুই জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। এ সময় তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার বাঙ্গড্ডা গ্রামের উত্তর পাড়ার মোহাম্মদ সোহাগকে ধরতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধরা হলেন- বাঙ্গড্ডা গ্রামের ভ্যানচালক কবির আহাম্মদের ছেলে শিশু রাকিব হোসেন (১১) ও মফিজুর রহমানের ছেলে ওমর ফারুক। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন- নাঙ্গলকোট থানার এএসআই আবদুর রহিম, কনস্টেবল জাহিদ ও মানিক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাঙ্গড্ডা গ্রামের সোহাগ পুলিশের ওপর হামলাসহ চার মামলার আসামি। এরমধ্যে দুই মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতের পরোয়ানা ছিল। এসব পরোয়ানায় তাকে গ্রেফতার করতে বৃহস্পতিবার ভোরে এএসআই আবদুর রহিমের নেতৃত্বে একদল পুলিশ বাড়িতে গিয়ে সোহাগকে আটক করে। তখন সোহাগ সব মামলায় জামিনে রয়েছে এবং থানায় রি-কল জমা আছে বলে তার হাতকড়া খুলে দিতে বলে। এনিয়ে তার সঙ্গে এসআই আবদুর রহিমের বাকবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে সোহাগের চিৎকারে তার ভাই ফারুকসহ আশেপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। তারা সোহাগকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি করে। এ সময় পুলিশ দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এতে সোহাগের ভাই ফারুক ও রাকিব নামে এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়। পরে উত্তেজিত জনতা পুলিশ সদস্যদের একটি বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখে। এতে এএসআই আবদুর রহিম, কনস্টেবল জাহিদ ও মানিক আহত হয়। খবর পেয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) সাইফুল ইসলাম সাইফ, নাঙ্গলকোট থানার ওসি মামুন অর রশিদ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ বিষয়ে সোহাগ বলেন, আমি জামিনে থাকার পরও আমার ওয়ারেন্ট আছে বলে ধরে নেওয়ার চেষ্টা করলে আমার মা ও স্ত্রী বাধা দেয়।
সোহাগ দাবি করেন, আমরা দারোগা রহিমের কাছে ওয়ারেন্ট কপি দেখাতে চাইলে তিনি দেখাতে পারেননি। এ সময় তিনি আমাদের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করে। আমি টাকা দিতে অস্বীকার করায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে, আমার মা ও স্ত্রীকে মারধর করেন। আমাদের চিৎকার শুনে আমার ভাই এগিয়ে এলে তাকেও তিনি গুলি করেন।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ওসি মামুন অর রশিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একাধিক পরোয়ানাভুক্ত আসামি সোহাগকে গ্রেফতার করলে তাকে ছাড়িয়ে নিতে স্বজনরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। এসময় পুলিশও আত্মরক্ষার্থে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় তিন পলিশ সদস্যসহ পাঁচ জন আহত হয়েছে। আমরা আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছি।’