খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া-না দেওয়া আদালতের বিষয়: তথ্যমন্ত্রী

সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছেন তথ্যমন্ত্রী (ছবি– প্রতিনিধি)চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে কিনা—এটা আদালতের বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিতে হলে তাকে জামিন পেতে হবে। জামিন পাওয়ার পর আবার আদালতের অনুমতি লাগবে তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশে নিয়ে যাওয়া যাবে কিনা। এসব পুরোপুরি আদালতের বিষয়। তিনি জামিন পাবেন কিনা এটা সরকারের বিষয় নয়। আদালত যদি জামিন দেন, আদালত যদি বিদেশে নেওয়ার অনুমতি দেন, তখন তার বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি আসে; এর আগে এটি সম্ভব নয়।’

শনিবার (২৬ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়ানজি পুকুরপাড় এলাকায় নিজ ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসা হচ্ছে না বলে বিএনপি নেতারা যেসব কথা বলেন, এগুলোর ভিত্তি নেই। গতকালও রিজভী আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে যেসব কথা বলেছেন, তার সঙ্গে খালেদা জিয়ার আত্মীয়স্বজনদের কথার কোনও তফাত নেই। তারা খালেদা জিয়ার চিকিৎসা হচ্ছে না বলে সহানুভূতি আদায় করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেটি করতে গিয়ে উল্টো তারা খালেদা জিয়াকে অসম্মানিত করছেন।’

খালেদা জিয়া একসময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ আরও বলেন, ‘তিনি যেন সুচিকিৎসা পান, ভালো চিকিৎসা পান, সেজন্য সরকার তাকে দেশের একটি স্বনামধন্য হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। তাকে দেশের সেরা হাসপাতালে রাখা হয়েছে। সেখানে যদি তার চিকিৎসাই না হয়, তাহলে যখন খালেদা জিয়াকে কারাগারে ফেরত পাঠানোর কথা বলা হয়, তখন বিএনপি নেতারা এর বিরোধিতা করেন কেন—এটিই আমার প্রশ্ন।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় মেডিক্যাল শিক্ষায় দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। দেশের সব প্রথিতযশা ডাক্তার এই মেডিক্যালের সঙ্গে সংযুক্ত। এখানে কোয়ালিটি চিকিৎসা দেওয়া হয়। আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক যখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ছিলেন, তখন তিনি সেখানেই চিকিৎসা নিয়েছেন। তাকে দেখতে যখন সিঙ্গাপুর ও ভারত থেকে ডাক্তাররা ওই হাসপাতালে এসেছিলেন, তখন তারা বলেছেন, সাধারণ সম্পাদককে সিঙ্গাপুর ও ভারতে নিয়ে যে চিকিৎসা দেওয়া হতো, এখানেও ঠিক তা-ই দেওয়া হচ্ছে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার সঙ্গে আত্মীয়স্বজনরা দেখা করে যেসব কথা বলেছেন, এগুলো সঠিক নয়। বয়স হলে মানুষ স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিভিন্ন জটিলতায় ভোগেন। খালেদা জিয়াও ওই ধরনের সমস্যায় ভুগছেন। কিন্তু তার স্বাস্থ্য এখন স্বাভাবিক রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তারা (বিএনপি নেতারা) অভিযোগ করেছেন ডাক্তাররা খালেদা জিয়াকে দেখতে যান না। কিন্তু আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি, এটি ভিত্তিহীন। ডিউটি ডাক্তার নিয়মিত তার স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নেন। সিনিয়র ডাক্তাররাও দুই-একদিন পর পর দেখতে যাচ্ছেন। তাকে নিয়মিত চেকআপের মধ্যে রাখা হয়েছে।’

সরকারদলীয় চিফ হুইপসহ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতার বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অনিয়ম-দুর্নীতির মূলোৎপাটনে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন। সেখানে কয়েকজন এমপির বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এসব কোনও কিছু বলা উচিত হবে না। তদন্ত চলাকালে কাউকে দোষী অথবা নির্দোষ কিছু বলা সমীচীন নয়।’

এ তালিকায় কোনও মন্ত্রী আছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটি আমি জানি না। তদন্ত সংস্থা তদন্ত করছে। কেউ থাকলে সেটি আপনারা পরে জানতে পারবেন।’