চাঁদপুর জেলা মৎস্য অফিস জানিয়েছে, জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২৭৭টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানে প্রায় সাত মেট্রিক টন ইলিশ ও ৭৩ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে ১০০টি। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ২১১টি। জরিমানা আদায় হয়েছে তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং কারাদণ্ড হয়েছে ১৯৩ জন জেলের।
এদিকে নিষেধাজ্ঞার শেষ সময়ে মতলব উত্তর, হাইমচর, সদর উপজেলার হরিণা, রাজরাজেশ্বর, লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন, আখনের হাট, দোকানঘর, আলুর বাজার, আনন্দ বাজারসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও মা ইলিশ ধরা এবং বিক্রি চলছে। প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকায়।
তবে এই সময়ের মধ্যে আইন মেনে অধিকাংশ জেলেই মা ইলিশ ধরেননি। তারা আজ রাত থেকে ইলিশ ধরতে নৌকা ভাসাবেন।
হাইমচরের জেলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা নিষেধাজ্ঞা মান্য করে চললেও বিভিন্ন স্থানে মাছ শিকার করা হয়েছে। কিন্তু আমরা ওই লোভে পা দেইনি। আশা করি, এখন আমরা ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরতে পারবো।
এদিকে মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা সফল করতে সচেষ্ট ছিল কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ, জেলা পুলিশ, মৎস্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসন। ভবিষ্যতে এ কর্মসূচি আরও সফল করতে জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর কথা বলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
চাঁদপুর কোস্টগার্ডের মাস্টার চিফ পেটি অফিসার মো. ইছাহাক আলী বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান চালাতে গিয়ে আমরা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছি। তবু আমরা নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছি। দিন-রাত নদীতে অভিযান পরিচালনা করেছি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর অভিযান অনেকটাই সফল বলে দাবি করেন তিনি।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী বলেন, আমাদের জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড, জেলা পুলিশ, মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক নদীতে অবস্থান করেছি। যে কারণে আমাদের ৭০ কিলোমিটার নদী এলাকায় মা ইলিশ প্রজননের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সফলতা এসেছে।
নৌপুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম বলেন, কারেন্ট জাল যেন উৎপাদন না হয় সে জন্য আমরা নদী ছাড়াও জাল তৈরির জায়গা বন্ধ করার চেষ্টা করেছি। জেলেদের গ্রেফতার করা বা হয়রানি করা আমাদের উদ্দেশ্য না, আমাদের উদ্দেশ্য তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার ও ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেন, এবারের অভিযান মোটামুটি ভালো হয়েছে। কিছু অসাধু জেলে রাতের আঁধারে মাছ ধরেছে। তারপরও আমরা আশাবাদী। আগামীতে ইলিশের উৎপাদন ভালো থাকবে।