নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ ধরায় ১৯৩ জেলের কারাদণ্ড

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে ফেলা জাল তুলছেন কোস্টগার্ড সদস্যরা প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বুধবার (৩০ অক্টোবর) শেষ হচ্ছে। এসময়ের মধ্যে টাস্কফোর্স সদস্যরা নদীতে অভিযান চালালেও অনেক অসাধু জেলে গোপনে জাল ফেলে মাছ শিকার করেছেন। এ অপরাধে ১৯৩ জন জেলেকে আটকের পর কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। নিষেধাজ্ঞার সময় শেষ হওয়ায় আজ রাত বারোটার পর থেকে ইলিশ ধরতে পারবেন জেলেরা।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য অফিস জানিয়েছে, জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২৭৭টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানে প্রায় সাত মেট্রিক টন ইলিশ ও ৭৩ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়েছে ১০০টি। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ২১১টি। জরিমানা আদায় হয়েছে তিন লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং কারাদণ্ড হয়েছে ১৯৩ জন জেলের।

এদিকে নিষেধাজ্ঞার শেষ সময়ে মতলব উত্তর, হাইমচর, সদর উপজেলার হরিণা, রাজরাজেশ্বর, লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন, আখনের হাট, দোকানঘর, আলুর বাজার, আনন্দ বাজারসহ বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও মা ইলিশ ধরা এবং বিক্রি চলছে। প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৫০০ টাকায়।

তবে এই সময়ের মধ্যে আইন মেনে অধিকাংশ জেলেই মা ইলিশ ধরেননি। তারা আজ রাত থেকে ইলিশ ধরতে নৌকা ভাসাবেন।

হাইমচরের জেলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমরা নিষেধাজ্ঞা মান্য করে চললেও বিভিন্ন স্থানে মাছ শিকার করা হয়েছে। কিন্তু আমরা ওই লোভে পা দেইনি। আশা করি, এখন আমরা ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরতে পারবো।

নদীতে মা ইলিশ ধরছেন অসাধু জেলেরা চাঁদপুর সদর উপজেলার বহরিয়া এলাকার জেলে করিম মাঝি বলেন, আমরা সরকারি আদেশ মেনেছি। কারণ মা ইলিশ ধরলে ভবিষ্যতে উৎপাদন কমে যাবে। সেজন্য আমরা মাছ ধরা থেকে বিরত ছিলাম। এ সময়ের মধ্যে নৌকা, জাল মেরামত করা শেষ হয়েছে। আজ রাত থেকে আমরা ইলিশ ধরা শুরু করবো।

এদিকে মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা সফল করতে সচেষ্ট ছিল কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ, জেলা পুলিশ, মৎস্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসন। ভবিষ্যতে এ কর্মসূচি আরও সফল করতে জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর কথা বলেছেন সংশ্লিষ্টরা।

চাঁদপুর কোস্টগার্ডের মাস্টার চিফ পেটি অফিসার মো. ইছাহাক আলী বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় অভিযান চালাতে গিয়ে আমরা বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার শিকার হয়েছি। তবু আমরা নিষিদ্ধ সময়ে জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছি। দিন-রাত নদীতে অভিযান পরিচালনা করেছি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর অভিযান অনেকটাই সফল বলে দাবি করেন তিনি।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী বলেন, আমাদের জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট, নৌপুলিশ, কোস্টগার্ড, জেলা পুলিশ, মৎস্য অফিসের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক নদীতে অবস্থান করেছি। যে কারণে আমাদের ৭০ কিলোমিটার নদী এলাকায় মা ইলিশ প্রজননের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সফলতা এসেছে।

নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ ধরতে মেরামত কাজে ব্যস্ত জেলেরাতিনি আরও বলেন, আমরা দেখেছি- শতকরা ৯০ ভাগের ওপরে মাছ ডিম ছেড়ে দিয়েছে- এমন মাছ জালে আসছে। এটি আমাদের পরবর্তী বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে জাতীয় ইলিশ উৎপাদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করি।

নৌপুলিশের ডিআইজি মোহাম্মদ আতিকুল ইসলাম বলেন, কারেন্ট জাল যেন উৎপাদন না হয় সে জন্য আমরা নদী ছাড়াও জাল তৈরির জায়গা বন্ধ করার চেষ্টা করেছি। জেলেদের গ্রেফতার করা বা হয়রানি করা আমাদের উদ্দেশ্য না, আমাদের উদ্দেশ্য তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের চিফ সায়েন্টিফিক অফিসার ও ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান বলেন, এবারের অভিযান মোটামুটি ভালো হয়েছে। কিছু অসাধু জেলে রাতের আঁধারে মাছ ধরেছে। তারপরও আমরা আশাবাদী। আগামীতে ইলিশের উৎপাদন ভালো থাকবে।