নগর বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক ইদ্রিস আলীর দাবি,দু’টি কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকরা তাদের দুই সমর্থককে ছুরিকাঘাতে আহত করেছেন। নৌকার সমর্থকরা ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে দিচ্ছেন না। এজেন্টদের কেন্দ্রে থেকে বের করে দিয়ে তারা কেন্দ্র দখল করে রেখেছেন।
সরেজমিনে কয়েকটি কেন্দ্রে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগসহ সরকার সমর্থকরা ভোটকেন্দ্রে অবস্থান করছেন। অনেক কেন্দ্রে বিএনপির সমর্থকদের দেখা যায়নি।
জানা গেছে, সোমবার সকাল ৯টায় নগরীর চান্দগাঁও এলাকার এখলাছুর রহমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ান। এর কিছুক্ষণ পর ওই কেন্দ্রে আসেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মোছলেম উদ্দিন। এসময় একজন অন্যজনকে দেখে এগিয়ে আসেন এবং আলিঙ্গন করেন। এর কিছুক্ষণ পরেই ওই কেন্দ্রের বাইরে ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ, সরকার দলীয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা অধিকাংশ কেন্দ্রে থেকে তার এজেন্টদের বের করে দিয়ে কেন্দ্র দখল করে নিয়েছেন।
নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের শাহ হাবীবুল্লাহ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে কাউন্সিলর শাহেদ ইকবাল বাবুর নেতৃত্বে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করছেন। ওই কেন্দ্রে থেকে বিএনপির এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
চান্দগাঁও এন এম সি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রের ভেতর ও বাইরে নৌকার সমর্থকরা অবস্থান নিয়েছেন। বিএনপির সমর্থক কাউকে ভোটকেন্দ্রের আশপাশে দেখা যায়নি। ওই কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি কম ছিল।
স্থানীয় কয়েকজন জানান, সকাল পৌনে ১০টার দিকে বিএনপির সমর্থকদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের কর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে ওই কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থীর কোনও সমর্থককে আর দেখা যায়নি।
মোহরায় মির্জা আহমদ ইস্পাহানি স্মৃতি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, ভোটকেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি কম। নৌকার সমর্থকদের দেখা গেলেও বিএনপির সমর্থকদের দেখা যায়নি।
বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে রিটার্নিং ও নির্বাচন কমিশনের চট্টগ্রামের আঞ্চলিক কর্মকর্তা হাসানুজ্জামান বলেন, ‘ধানের শীষের প্রার্থীর কাছ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। যেসব কেন্দ্রের অভিযোগ আমরা পেয়েছি, সেগুলোতে খোঁজও নিয়েছি। তবে অভিযোগ সত্য না। কয়েকটি কেন্দ্রে ওদের নির্বাচনি এজেন্ট নিজ থেকেই যায়নি। আর কয়েকটি কেন্দ্রে এজেন্ট দেখা গেলেও সবগুলো কক্ষে তাদের দেখা মেলেনি। হয়তো তাদের কর্মী সংকট ছিল।’