ইভটিজিংয়ের শিকার স্কুলছাত্রী একমাস ধরে গৃহবন্দি

চট্টগ্রামচট্টগ্রামে স্কুলে নতুন বই আনতে যাওয়ার পথে ইভিটিজিংয়ের শিকার হয়েছে চরনদ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী। শরীফুল ইসলাম সজিব নামে এক যুবক তাকে স্কুলে যাওয়ার পথ রোধ করে জোর করে সেলফি তুলতে চায়। এতে রাজি না হওয়ায় তার ওপর চড়াও হয় সজিব। একপর্যায়ে তার হাত থেকে বাঁচতে বই না নিয়েই বাসায় ফেরে সে। গত ২ জানুয়ারি বোয়ালখালী উপজেলার চরনদ্বীপ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই ইভটিজার সজিব ও তার সহযোগীদের ভয়ে প্রায় এক মাস গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছে মেয়েটি।
এ ঘটনায় ওই ছাত্রী সজিবের বিরুদ্ধে গত ১৫ জানুয়ারি বোয়ালখালী থানায় মৌখিক অভিযোগ এবং ২৮ জানুয়ারি মামলা দায়ের করে। এতে সজিব আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সে মামলা তুলতে ওই ছাত্রীর পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্যাতনের শিকার ওই স্কুলছাত্রীর খালু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গত ২ জানুয়ারি মেয়েটি স্কুলে নতুন বই আনতে যাচ্ছিল। এ সময় রাস্তায় সজিবসহ কয়েকজন তাকে আটকে ধরে তার সঙ্গে সেলফি তুলতে চায়। এরপর মেয়েটি চিৎকার দিলে আশপাশ থেকে লোকজন আসলে তারা পালিয়ে যায়। এরপর স্কুলে না গিয়ে মেয়েটি বাড়িতে চলে আসে। বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীকে (ভিকটিমের খালা) বিষয়টি বলে। পরে আমার স্ত্রী গিয়ে সজিবের পরিবারের কাছে অভিযোগ দেয়। এতে সজিব আরও ক্ষেপে যায়। এরপর আমরা বিষয়টি থানায় এবং নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানালে তিনি ১৫ জানুয়ারি দেখা করতে বলেন। এরপর ওই দিন আমরা তার কাছে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিই। তখন তিনি বিষয়টি থানা পুলিশকে জানান। এরপর পুলিশ সজিবের বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি।’
ঘটনার বর্ণনায় তিনি আরও বলেন, আমরা ইউএনও মেডাম এবং থানায় জানানোর পর সজিব ও তার সহযোগীরা আমাকে হুমকি দিতে থাকে। এ ঘটনায় আমি গত ১৯ জানুয়ারি আদালতে একটি জিডি করেছি। জিডি করার পর ২৩ জানুয়ারি তারা আমাকে এটি প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেয়। কিন্তু প্রত্যাহার না করায় গত ২৪ জানুয়ারি সজিব ও তার সহযোগীরা আমার ভাইকে তুলে নিয়ে মারধর করে। পরে আমার স্ত্রী তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানেও সজিব ও তার সহযোগীরা আমাদের ওপর হামলা চালায়।
তিনি অভিযোগ করেন, এ ঘটনায় আমরা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ প্রথমে আমাদের মামলা নেয়নি। উল্টো সজিব বাদী হয়ে থানায় আমাদের ওপর মামলা দায়ের করেন। এরপর পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর পুলিশ মামলা নিয়েছে। সজিবসহ ৮ জনকে আসামি করে আমার স্ত্রী থানায় মামলাটি করেন। কিন্তু পুলিশ এখনও তাদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
মামলার আসামিরা হলো- শরিফুল ইসলাম সজিব, জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সোহেল, কাজী খোরশেদ আলম মিল্টন, মেহেদি হাসান নয়ন, এজাবত উল্লাহ জাহেদ, ইউছুপ ও শহিদুল ইসলাম রিমন।
এ বিষয়ে জানতে বোয়ালখালী থানার ওসি শেখ নেয়ামত উল্ল্যাহর ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (দক্ষিণ) আফরুজুল হক টুটুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভিকটিমের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতারের জন্য অভিযান পরিচালনা করে আসছি। ইতোমধ্যে তার বাড়িতে বেশ কয়েক দফায় আমরা অভিযান চালিয়েছি। কিন্তু তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে আমি নিজে গিয়ে ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। থানা পুলিশের একটি পেট্রোল টিম ভিকটিমের বাড়ির আশেপাশে সবসময় আছে। আশা করছি শিগগিরি আমরা আসামিদের গ্রেফতার করতে পারবো।’
তিনি আরও বলেন, ‘সজিবের সঙ্গে মেয়ের খালুর আগে থেকে পারিবারিক শত্রুতা ছিল। ওই শত্রুতার জের ধরেই মূলত ঘটনার সূত্রপাত। তবে পারিবারিক বিষয়টিকে এড়িয়ে আমরা এখন মেয়েটিকে উত্ত্যক্ত করার বিষয়টি প্রাধান্য দিচ্ছি।’
তবে পুলিশের এই অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মেয়েটির খালু। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘আমাদের এবং সজিবদের বাড়ি একই পাড়ায়। কিন্তু জমিজমা ছাড়াও থাকলেও কারও বাড়ির সঙ্গে কারও জায়গা জমি নেই। তাহলে শত্রুতা থাকবে কেন। পুলিশ কী কারণে এটি বলেছে আমি নিশ্চিত নই।’
এ সম্পর্কে জানতে অভিযুক্ত সজিবের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।