জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকা, সদর উপজেলার বুধল, মজলিসপুর ও মাছিহাতা ইউনিয়নের ৮০ বিঘা জমিতে ৮০ জন কৃষক পরীক্ষামূলকভাবে হাইসান-৩৩ জাতের সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। ইতোমধ্যে গাছে ফুল ধরেছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার লোকজন ফুল দেখতে ভিড় করছেন।
সরজমিনে বুধল ইউনিয়নের সুতিয়ারা ও চান্দিয়ারা গ্রাম এবং মজলিশপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে সূর্যমুখীর বাগান দেখা গেছে।
একই ইউনিয়নের চান্দিয়ারা গ্রামের কৃষক নূরু মিয়া জানান, আগে তিনি তার জমিতে আলু, ধনিয়া, টমেটো, ঢেড়শ চাষ করতেন। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে এ বছরই সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে বীজ ও সার দিয়েছে। বাগানে ফুল আসার পর প্রতিদিনই লোকজন আসছে বাগান দেখতে। তিনিও আশা করছেন সূর্যমুখী চাষ করে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার।
সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মুনসী তোফায়েল হোসেন বলেন, আগে সদর উপজেলার কোনও কৃষক সূর্যমুখী ফুলের চাষ করতেন না। মুজিববর্ষ উপলক্ষে এবারই প্রথম সরকারের রাজস্ব খাতের অর্থায়নে ব্রাহ্মণবাড়িয়া
তিনি আরও জানান, প্রতি বিঘা জমিতে ছয় থেকে সাড়ে ছয় মণ বীজ পাওয়া যাবে। বিঘা প্রতি থেকে কৃষক ১০-১১ হাজার টাকার বীজ বিক্রি করতে পারবেন।
সূর্যমুখীর বীজ বিক্রির প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, ফেনীর সোনাইগাজীতে সূর্যমুখী ফুলের বীজ থেকে ভোজ্য তেল তৈরির কারখানা আছে। তাদের সঙ্গে আমাদের চুক্তি হয়েছে। আমাদের উৎপাদিত বীজ ৪৫ টাকা কেজি দরে কিনবে তারা। সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকেই তারা বীজ কিনবে। এ প্রক্রিয়ায় কৃষি অফিস মধ্যস্থতা করবে।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, এই প্রথমবারের মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চাষিরা সূর্যমুখী ফুলের চাষ শুরু করেছেন। আমরা উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের পক্ষ থেকে চাষিদেরকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা করেছি। সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষকদেরকে বিনামূল্যে সূর্যমুখীর বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। আশা করি ফলন খুবই ভালো হবে। আগামীতে আরও বেশি জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হবে।