রবিবার (১ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে লবণ উৎপাদন ও বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
লিখিত বক্তব্যে শাহজাহান চৌধুরী বলেন ‘একদিকে মাঠে পড়ে আছে লাখ লাখ মেট্রিক টন লবণ, অন্যদিকে শিল্প লবণের নামে বিদেশ থেকে লবণ আমদানি করা হচ্ছে। ফলে চাষিরা লবণের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে মাঠ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হচ্ছেন। ঋণ ও দাদন নেওয়া এসব চাষিদের যারা এখনও মাঠে আছেন, তারাও পালানোর চেষ্টায় আছেন।’
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে লবণের হালচাল ও বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য মতে, বাংলাদেশে খাদ্যলবণের চাহিদা প্রায় ১৭ লাখ মেট্রিক টন, আর শিল্পলবণের চাহিদা প্রায় ৩ লাখ ৮৩ হাজার মেট্রিক টন। অথচ দেশে উৎপাদিত হয় ১৮ লাখ মেট্রিক টন লবণ। এই অর্থ বছরে দেশে ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৭৫৮ মেট্রিক টন শিল্পলবণ আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে সোডিয়াম ক্লোরাইড ৮ লাখ ৯০ হাজার ১৮০ মেট্রিক টন, হোয়াইট সোডিয়াম সালফেট ৫ লাখ ২৪ হাজার ৮৪ মেট্রিক টন ও সোডিয়াম সালফেট ২৬ হাজার ৫৩০ মেট্রিক টন। অথচ অবাক হওয়ার মতো তথ্য হলো, বাংলাদেশি চাষিদের উৎপাদিত প্রায় ৯ লাখ মেট্রিক টন লবণ মাঠেই পড়ে আছে। এত লবণ থাকার পরও সরকারের ছত্রছায়ায় কতিপয় আমদানিকারক ১৪ লাখ ৪০ হাজার ৭৫৮ মেট্রিক টন লবণ আমদানি করেছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘দেশের বড় বড় কোম্পানিগুলো, যারা শিল্পলবণ হিসেবে হোয়াইট সোডিয়াম সালফেট আমদানি করেন, তারা তা প্রক্রিয়াজাত করে খাদ্যলবণ হিসেবে বাজারজাত করছেন; যা দেশের লবণ শিল্পকে শতভাগ ধ্বংস করে দেওয়ার আশঙ্কায় ফেলে দিয়েছে।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কুতুবদিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এটিএম নুরুল বশর চৌধুরী, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া প্রমুখ।