রাঙামাটির দুর্গম সাজেক ইউনিয়নের হাম আক্রান্ত পাঁচ ভাই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সর্বিক সহযোগিতা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (১১ এপ্রিল) তারা বাড়ি ফিরেছে।
তারা হলো, সাজেকের লংথিয়ান পাড়ার বাসিন্দা অনি ভূষণ ত্রিপুরা ছেলে প্রতিল ত্রিপুরা (৫), রোকেন্দ্র ত্রিপুরা (৬), রাজেন্দ্র ত্রিপুরা (৮), নহেন্দ্র ত্রিপুরা (১০) এবং দীপায়ন ত্রিপুরা (১৩)।
অনি ভূষণ ত্রিপুরা বলেন, ‘সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আমার বাচ্চাদের বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। আমাদের গ্রামে কয়েকটি শিশু মারা গেছে। এভাবে পাশে থাকায় সেনাবাহিনীকে ধন্যবাদ।’
সাজেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নেলসন চাকমা নয়ন জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর সার্বিক সহযোগিতায় ৫ শিশু বেঁচে ফিরে এসেছে। যে দুর্গম এলাকায় ওরা বসবাস করে সেখান থেকে চিকিৎসার জন্য বাঘাইছড়ি সদরে আসাই কঠিন ছিল। সেনাবাহিনীর কারণে চট্টগ্রামে উন্নত চিসিৎসা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে সাজেক ইউনিয়নের হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাম-রুবেলা টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। দুঃখের বিষয় ওইসব এলাকার লোকজন এখনও সচেতন না। ফলে কেউ টিকা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দিয়ে অনেকটা জোর করেই যতটুকু সম্ভব টিকার আওতায় আনার চেষ্টা করছি। আবার কাউকে কাউকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে এমন ভয় দেখিও টিকার আওতায় আনার কাজ করতে হচ্ছে। দুর্গম গ্রামের এসব মানুষ এখনও কুসংস্কারে বিশ্বাসী।
সম্প্রতি সাজেকে ইউনিয়নের ১০-১২টি গ্রামে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত হামে ৮ শিশুর মৃত্যু হয়। আক্রান্ত হয় আড়াই শতাধিক। এরপর হাম পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৭ এপ্রিল থেকে সাজেকে বিশেষভাবে হাম-রুবেলা টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। তিনটি ক্যাম্পেইনের আওতায় সাজেকের সবকটি গ্রামের ছয়মাস থেকে ১৫ বছরের নিচ পর্যন্ত প্রায় ১১-১২ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইফতেখার আহম্মেদ জানিয়েছেন, টার্গেট অনুযায়ী তিনটি ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সাজেকের সাড়ে ১১ হাজার শিশুকে হাম-রুবেলা টিকা প্রদানের কাজ চলমান আছে। কোনও শিশু যাতে টিকা গ্রহণ থেকে বাদ না পড়েন, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ নজরদারি করা হচ্ছে। ক্যাম্পেইনের আওতাভুক্ত এলাকাগুলোয় দ্রুত ভ্যাকসিন পৌঁছাতে হেলিকপ্টারসহ সার্বিক সহযোগিতায় কাজ করছে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও উপজেলা প্রশাসন।
প্রসঙ্গত, ২৪ মার্চ সেনাবাহিনীর একটি চিকিৎসক দল এবং বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২ জন ডাক্তারসহ ৮ সদস্যের এক বিশেষ চিকিৎসক দল হেলিকপ্টারে করে হামে আক্রান্ত এলাকায় দুই দিনে শতাধিক রোগীর চিকিৎসা দেয়। তখন আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শিয়ালদহ এলাকার লংথিয়ান পাড়ার ৫ শিশুর অবস্থা
গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেনাবাহিনী প্রথমে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।