চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরের বড়পোল এলাকায় পিকআপ ভ্যান থামিয়ে খাবার লুট করেছেন নগরীর নিম্ন আয়ের কিছু মানুষ। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পিকআপ থেকে কয়েক বস্তা চাল, কয়েক কার্টন ফল নামিয়ে রেখে দেন তারা।
পিকআপের ড্রাইভার রবিউল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পদ্মা অয়েলের জন্য খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যাচ্ছিলাম। বড়পোল এলাকায় গিয়ে দেখি সেখানে কিছু মানুষ জড়ো হয়ে আগে থেকে রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছে। এরপর গাড়ি যাওয়ার পর তারা গাড়িতে উঠে জোর করে কয়েক বস্তা চাল আর কয়েক কার্টন ফল লুট করে নিয়ে যান। তারা সব খাবার নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। অনেক বুঝিয়ে আমরা দ্রুত সেখান থেকে কেটে পড়ি।’
প্রত্যক্ষদর্শী ফটো সাংবাদিক মিনহাজ উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ত্রাণের আশায় হালিশহর এলাকার কিছু নিম্ন আয়ের মানুষ সকাল থেকে বড়পোল এলাকায় অবস্থান নেয়। দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষার পর ত্রাণ না পেয়ে পরে দুপুরে তারা ওই পিকআপ থেকে খাবার লুট করেন।’
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে হালিশহর থানার এস আই জসিম উদ্দিন বলেন, ‘এ ধরনের একটি খবর শুনেছি। কিন্তু ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা খাবার লুট করার সঙ্গে জড়িত কাউকে পায়নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ত্রাণের জন্য কিছু সিএনজি চালক বড়পোল এলাকায় সড়কে অবস্থান নেয়। সকাল ১০টা থেকে তারা সড়কে অবস্থান নেয়। খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়ে তাদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছি। ত্রাণ সহায়তার জন্য তাদের তালিকা করা হয়েছে। তাদের খাদ্যসামগ্রী সহায়তা দেওয়া হবে।’
একই দিন সকালে নগরীর ডবলমুরিং থানাধীন আগ্রাবাদ এলাকায় বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত তারা আগ্রাবাদ বাদামতল মোড়ে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের বাসায় ফেরত পাঠিয়েছেন।
এ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘ফ্রাংক গ্রুপের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে শ্রমিকদের শান্ত করার চেষ্টা করি। এরপর ওই কারখানার মালিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ২৮ এপ্রিল বকেয়া বেতন পরিশোধ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এরপর আমরা শ্রমিকদের বুঝিয়ে বাসায় ফেরত পাঠিয়েছি।’