ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে মঙ্গলবার দিনব্যাপী গোমট আবহাওয়া বিরাজ করছে চাঁদপুর। মাঝেমাঝে গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টিও। বাড়ছে বাতাসের গতি।
এদিকে এ দুর্যোগ মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ৩২৪টি আশ্রয়কেন্দ্র। এই আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর ধারণ ক্ষমতা এক লাখ তিন হাজার ৪৫৭ জন। দুর্যোগে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। যেকোনও সমস্যায় ফোন করা যাবে ০৮৪১-৬৩৫৯৬ এবং ০১৭৩০০৬৭০৭৯ নম্বরে।
জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। সদর, হাইমচর এবং মতলব উত্তর উপজেলার উপকূলবর্তী ১৮টি ইউনিয়নের কিছু সংখ্যক লোক নিজ দায়িত্বে স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিতে শুরু করেছেন।
চাঁদপুর জেলা প্রশাসন জানায়, দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তাদের কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে দুর্যোগ পরবর্তীতে উদ্ধার, অনুসন্ধান ও ত্রাণ বিতরণের জন্য দু’টি উদ্ধারকারী নৌযান সচল রাখা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ৫০ জন, রোভার স্কাউটের ৪০ জন এবং জেলা স্কাউটের ৩৩০ জন সদস্যকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নৌপুলিশের একটি থানা ও পাঁচটি নৌফাঁড়ির মোট ৮১ জন সদস্য এবং কোস্টগার্ডের ৫০ জন সদস্যকে উদ্ধার কাজের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসন জানায়, চাঁদপুর জেলার উপকূলবর্তী চরাঞ্চলের জনসংখ্যা মোট ৭৪ হাজার ৯৭৮ জন। এর মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলার ২৭ হাজার ৮৮০ জন, হাইমচরে ২৬ হাজার ২০৪ জন এবং মতলব উত্তরে ২০ হাজার ৮৯৪ জন রয়েছেন।
এছাড়া ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবিলায় জেলায় মজুত রাখা হয়েছে ১০০ মেট্রিক টন জি আর চাল, নগদ দুই লাখ টাকা, শিশু খাদ্য ক্রয় বাবদ একলাখ টাকা, গো-খাদ্য ক্রয় বাবদ একলাখ টাকা এবং দুই হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার।
এদিকে, চাঁদপুর জেলা আবহাওয়া কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শাহ মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, 'সুপার সাইক্লোন আম্পান এর বিশেষ আবহাওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী উপকূলীয় জেলা চাঁদপুরের অদূবর্তী তীর ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। ঘূর্ণিঝড়জনিত কারণে উপকূলীয় তীর ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৫ থেকে ১০ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।'
তিনি বলেন, 'সুপার সাইক্লোন আম্পান খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে ১৯ মে শেষ রাত হতে ২০ মে বিকালের মধ্যে অতিক্রমকালে চাঁদপুরের অদূরবর্তী তীর ও চরসমূহে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ১৪০ থেকে ১৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।'