ফেনীতে একদিনে করোনা শনাক্তের রেকর্ড

করোনাভাইরাসফেনীতে গত ২৪ ঘণ্টায় আট জন পুলিশ সদস্যসহ ৭৮ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। জেলায় করোনা হানা দেওয়ার পর এটি সংক্রমণের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এ নিয়ে জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৭৪৯ জনে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

সূত্র জানায়, ২৪ ঘণ্টায় নোয়াখালীর আবদুল মালেক উকিল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাব থেকে ৩৯২টি নমুনা পরীক্ষার ফল এসেছে। এরমধ্যে ৮০ জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। নতুন শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সদর উপজেলার ৩১ জন, দাগনভুঞার ২০ জন, সোনাগাজীর ১২ জন, ছাগলনাইয়ার ১০ জন, ফুলগাজী ও পরশুরামে দুই জন করেসহ আরও একজন রয়েছেন। এছাড়া আগে শনাক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে পুনরায় নমুনা পরীক্ষায় দুই জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।

দাগনভূঞা উপজেলায় শনাক্ত হওয়া ২০ জনের মধ্যে পৌরসভায় ১১ জন, রামনগরে চার জন, জায়লস্করে তিন জন, পূর্বচন্দ্রপুর ও সদর ইউনিয়নে একজন করে রয়েছেন। এদের মধ্যে চার জন পুলিশ সদস্য রয়েছেন।

সোনাগাজী উপজেলায় উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এক ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। তার বাড়ি উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুরে। এই উপজেলায় আক্রান্ত তিন জন পুলিশ কর্মকর্তার একজন সোনাগাজী সার্কেলের ওসি, মডেল থানার দুই জন সাব-ইন্সপেক্টর। আরও রয়েছেন একজন ব্যাংক কর্মকর্তা ও একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী।

এছাড়া আক্রান্তদের দুই জন মতিগঞ্জ, দুই জন বগাদানার, একজন তুলাতলীর ও একজন নবাবপুর ইউনিয়নের নাজিরপুর এলাকার বাসিন্দা।

ছাগলনাইয়ায় ১০ জনের মধ্যে দুই জন মটুয়ায়, বাকিদের বাড়ি পশ্চিম ছাগলনাইয়া, দক্ষিণ কুহুমা, বাংলাবাজার, বাঁশপাড়া, দক্ষিণ সতের, পূর্ব ছাগলনাইয়া ও পূর্ব বাথানীয়ায়। অপর একজন ফুলগাজী থেকে এসে নমুনা দিয়ে পজিটিভ শনাক্ত হন। এদের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পরিদর্শক রয়েছেন একজন। পরশুরাম উপজেলায় দুই জনের বাড়ি পৌরসভার কোলাপাড়া ও চিথলিয়া ইউনিয়নে। কোলাপাড়ার বাসিন্দা স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক। ফুলগাজী উপজেলায় একজন পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর। অপরজন দরবারপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।

প্রসঙ্গত, গত ১৬ এপ্রিল জেলায় প্রথম এক যুবকের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর থেকে জেলায় এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৭৪৯ জন। হাসপাতালের আইসোলেশনে ৩৬ জন চিকিৎসাধীন। অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়েছে ১৭ জনকে। ৮১ জন নতুন সুস্থসহ এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ২৭৪ জন। মারা গেছেন ১৫ জন।