মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কুমিল্লার মুরাদনগরে ফেসবুকে গুজব ছড়িয়ে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে সাম্প্রদায়িক হামলা, অগ্নিসংযোগ, মহিলাদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। এছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ধর্ম অবমাননার অজুহাতে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে একের পর এক হিন্দু শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিল করছে প্রশাসন। এই সকল অন্যায়ের প্রতিবাদে আজ আমরা সড়কে নেমেছি।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি চন্দন রায়, সাধারণ সম্পাদক তাপস বক্সী, কুমিল্লা জেলা পূজা উৎযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মুল পাল, জাতীয় হিন্দু জোটের প্রধান উপদেষ্টা তাপস কুমান নাহা, সভা-সভাপতি অ্যাডভোকেট স্বর্ণকমল নন্দী, সাধারণ সম্পাদক মানিক চন্দ্র ভৌমিক, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে ডিন ড. বিশ্বজিৎ দেব, ড. দুলাল নন্দী, আইন ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব সুবীর নন্দী বাবু, যুব ঐক্য পরিষদের মধৃমৃদন রায়, ইসকন কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক পিতাম্বর গৌর দাস, জাতীয় ছাত্র-যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি হৃদয় দাস, জাগো হিন্দু পরিষদের সভাপতি সাগর দাস, সাধারণ সম্পাদক কিশোর দাসসহ কুমিল্লা টুরিজম ও গিরিধারি সংঘের নেতৃরা।
মানববন্ধনে সমাপনী বক্তব্যে কুমিল্লা জেলা হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি চন্দন রায় বলেন, আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ আমাদের রক্তে কেনা বাংলাদেশ। আজ সেই বাংলাদেশে যেভাবে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ওপর হামলা ও নির্যাতন করা হচ্ছে তা কারও কাম্য নয়। এ ধরণের সহিংসতা মেনে নেওয়া যায় না। আমরা সংখ্যালঘুরা আজ নিজেদের বাড়িঘর, মা-বোনের ইজ্জত এবং প্রাণ রক্ষায় রাস্তায় নেমেছি। এ ছাড়া আজ আমরা চোখে কিছুই দেখছি না। কারণ এই আওয়ামী লীগের সরকারের শাসনামলে মুরাদনগরের কোরবানপুরে হিন্দুদের বিরুদ্ধে গুজব ছড়িয়ে ২৫ বছরের চেয়ারম্যানের বাড়িঘরসহ ৫টি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। যেদেশে হিন্দু সম্প্রাদায়ের একজন জনপতিনিধির নিরাপত্তা নেই, সেখানে আমরা সাধারণ হিন্দুরা কিভাবে নিরাপদ আছি। আামদের নিরাপত্তা নেই। আমরা প্রশাসনকে বলবো মুরাদনগরের কোরবানপুরে যারা হিন্দুদের বাড়িতে অন্যায়ভাবে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে দ্রুত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।