তিনি বলেন, ‘টাউন হল ভেঙে নতুন ভবন করার পক্ষে হাস্যকর গণশুনানিতে যে ৩৭ জন বক্তব্য দিয়েছেন, তারা সবাই এমপি বাহাউদ্দিনের অনুসারী ছিলেন। কুমিল্লার কোনও সাধারণ নাগরিক ওই গণশুনানিতে কথা বলার সুযোগ পাননি। কারণ, তিনি জানেন এমপির অনুসারীদের বাইরে কুমিল্লার ৬০ লাখ মানুষ এই ঐতিহ্যবাহী টাউন হল ভেঙে ফেলার পক্ষে নয়। তারা টাউন হলকে পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণের পক্ষে। কারণ, এই টাউন হল কুমিল্লার ঐতিহ্য বহন করে।’
সোমবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে নগরীর নজরুল অ্যাভিনিউ এলাকায় মডার্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে কুমিল্লার ঐতিহ্যের আইকন টাউন হল নিয়ে এমন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তিনি।
এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকার দেশের উন্নয়নের পাশাপাশি ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিশ্বাসী। এই ধারাবাহিকতায় ঐতিহ্য সংরক্ষণের জন্য টাউন হলের জায়গায় ব্যবসায়িক কারণে নির্মিত বহুতল সুপার মার্কেট ভেঙে সেখানে আধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।’
গণশুনানিতে মতামত, স্বাক্ষর গ্রহণ ও মানববন্ধনের প্রসঙ্গ টেনে এমপি সীমা বলেন, ‘সদর আসনের এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিনের পছন্দের লোকজনের তালিকা করে বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া হয়েছে এবং বাক্সে মতামত ফেলা হয়েছে। এছাড়া মানববন্ধনে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সংগঠন ও নানা শ্রেণি-পেশার নেতাদের ব্যানার নিয়ে গণশুনানি ও মানববন্ধনে অংশগ্রহণের জন্য বাধ্য করা হয়েছে, যা অনভিপ্রেত। বাসে বাসে বিভিন্ন উপজেলার গ্রাম থেকে মানুষ ভাড়া করে এনেছে সড়ক বন্ধ করে ব্যানার হাতে দাঁড়ানোর জন্য। সেখানে শুধু ওই এমপির অনুসারী লোকজনই ছিলেন। এছাড়া ১৯৯৫ সাল থেকে টাউন হলের কমিটিতে ঘুরেফিরে ওই এমপির অনুসারীরা রয়েছেন। ব্যবসায়িক স্বার্থেই সেখানে আধুনিক টাউন হল কমপ্লেক্স নির্মাণের নামে ঐতিহ্যের টাউন হল ভেঙে ফেলার তোড়জোড় চালানো হচ্ছে।’
এমপি সীমা জেলার মন্ত্রী, অন্যান্য সংসদীয় আসনের এমপি ও সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে টাউন হলের ঐতিহ্য সংরক্ষণের বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন বলেও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা খাদেম মো. ফিরোজ, পাপন পাল, মো. শাহজাহান প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ১৮৮৫ সালে তৎকালীন ত্রিপুরার রাজা বীরচন্দ্র মানিক্য বাহাদুর কুমিল্লা শহরের কেন্দ্রস্থলে দৃষ্টিনন্দন টাউন হল ভবন নির্মাণ করেন। গত ২ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এক সভায় টাউন হলের ভবন ভেঙে সেখানে আধুনিক মানের টাউন হল কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান স্থানীয় এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশিত হলে এ নিয়ে সচেতন মহলে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠে। এ ভবন পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে দেশের খ্যাতনামা ৫০ জন বুদ্ধিজীবী বিবৃতি দেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ‘টাউন হল পুরাকীর্তি হবে কি হবে না’ তা নিয়ে প্রতিবেদন দিতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল মান্নান ইলিয়াসকে প্রধান করে ১৩ সদস্যের কমিটি করে। ওই কমিটি গত ৯ ডিসেম্বর টাউন হল সরেজমিন পরিদর্শনের পর বৈঠক শেষে ১৯ ডিসেম্বর গণশুনানির তারিখ ঘোষণা করে।