সড়কে চলাচল করা চালক ও যাত্রীরা জানান, কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কের বিকল্প হিসেবে রাজধানী ঢাকায় যাতায়াতে এই ইলিয়টগঞ্জ সড়ক ব্যবহার করেন মুরাদনগর ও দেবিদ্বার উপজেলার বাসিন্দারা। সোজা ও আয়তনে কম হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যে দাউদকান্দিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়। এ কারণে ক্যান্টনমেন্ট হয়ে ঢাকায় যেতে হয় না। কিন্তু গত দুই বছর দরে এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বেহাল হয়ে পড়েছে। সড়কজুড়ে গর্ত আর খানাখন্দ থাকায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছেন যাত্রী ও চালকরা। এই রাস্তায় চলাফেরা করতে সুস্থ-সবল মানুষেরও নাভিশ্বাস ওঠে যায়।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, দাউদকান্দির ইলিয়টগঞ্জ থেকে মুরাদনগর সদর পর্যন্ত সড়কটি ২৫ কিলোমিটার। এই সড়কের বোরারচর থেকে বাখরাবাদ বাজার ও নহল চৌমুহনী হয়ে মুরাদনগর উপজেলা সদর পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সড়কের কার্পেটিং উঠে ইটের খোয়া ও পাথর বেরিয়ে পড়েছে। সড়কজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় খানাখন্দ। এর মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ট্রাক্টরসহ ইঞ্জিনচালিত যানবাহন চলাচল করছে।
এই সড়কে নিয়মিত সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক মো. মানিক, আবুল খায়ের ও ইউছুফ জানান, সড়কের রোরারচর থেকে মুরাদনগর সদর পর্যন্ত গর্ত আর গর্ত। এই বেহাল সড়ক গাড়ি চালানোর উপযোগী নয়। মানুষের ভোগান্তি চরমে। গাড়িতে বসে যাত্রীরা চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যদের গালিগালাজ করে।
চালকদের অভিযোগ, সড়কের পান্নারপুল থেকে মুরাদনগর উপজেলা সদর পর্যন্ত অসংখ্য স্থানে গাড়ি থেকে চাঁদা তোলেন স্থানীয় নেতারা। প্রতিটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে পান্নারপুল ৩০ টাকা, নহল চৌমুহনীতে ৩০ টাকা এবং বাখরাবাদ বাজারে ৩০ টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করা হয়। প্রতিদিন এই হারে চাঁদা দিয়েও গর্ত আর খানাখন্দে ভরা সড়কে ভোগান্তি পোহাতে হয়। প্রায় সময় গাড়ির চাকাসহ ইঞ্জিনে নানা সমস্যা তৈরি হয়।
মুরাদনগর উপজেলার চেয়ারম্যান আহসানুল আলম সরকার কিশোর জানান, মুরাদনগর- ইলিয়টগঞ্জ সড়কটি মুরাদনগর ও দেবিদ্বারের বাসিন্দারা রাজধানীতে আসা-যাওয়ায় বিকল্প সড়ক হিসেবে ব্যবহার করেন। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সড়কটি দুর্ভোগপূর্ণ হওয়ায় ওই সড়কের বিকল্প হিসেবে এই সড়কটি ব্যবহার করে মানুষ। কিন্তু এই সড়কটিরও সংস্কারের প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। আমি জেলা সমন্বয় কমিটির সভায় সংস্কারের কথা বলেছি। তখন সড়ক ও জনপথ বিভাগ জানায়, সাড়ে ৮শ’ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে এই সড়কটি সংস্কারের জন্য। আশা করি, খুব শিগগিরই কর্তৃপক্ষ সড়কটি সংস্কারে কাজ শুরু করবে।
বেহাল এই সড়কটি সংস্কারে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, ‘সড়কটি সংস্কারের প্রয়োজন। শুধু সড়ক নয় খাল ও নদীর ওপর নির্মিত বেইলি ব্রিজগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ। এই সড়ক সংস্কারের জন্য ঢাকায় আবেদন করেছি। স্থানীয় সংসদ সদস্যও চেষ্টা করে যাচ্ছেন। ইনশাল্লাহ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে খুব দ্রুত সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করা যাবে।’