কক্সবাজারে তিন দিনের সৈকত উৎসব শুরু

noname

পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার সেজেছে নতুন সাজে। ইংরেজি নববর্ষে কক্সবাজারসহ বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে আয়োজন করা হয়েছে তিন দিনের সৈকত উৎসব ‘বিচ কার্নিভ্যাল’। বৃহস্পতিবার সকালে ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বিচ কার্নিভ্যাল’ উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি র‌্যালি বের হয়। র‌্যালিটি কলাতলীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সৈকতের লাবনী পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। র‌্যালিতে অংশ নেয় প্রায় দুই হাজার স্কুলশিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ। এরপর লাবনী পয়েন্টে অতিথিদের সামনে নাচ, গান, মুক্তিযুদ্ধ ও অগ্রসরমান বাংলাদেশের নানা অর্জনের ওপর একটি কোরিওগ্রাফিক প্রদর্শনী তুলে ধরে কক্সবাজার বাইতুস সরফ জব্বারিয়া একাডেমির প্রায় ৪ শতাধিক শিক্ষার্থী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন,‘উৎসবে আসার লোভ সংবরণ করতে না পেরে গত রাতেই আমি এখানে এসে হাজির হয়েছি। এখন আনন্দের সময়ে বক্তব্য দিয়ে অত্যাচার না করে বরং দীর্ঘ তালিকা ছোট করা হয়েছে। আপনারা আনন্দ করুন।’

noname

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘নিজের দেশ ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পর্যটনের কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশকে পরিচিত করাতে চাই। যার শুরু হবে এই সমুদ্র সৈকত থেকে। ধর্মের নামে যারা মানুষে মানুষে যারা ভেদাভেদ তৈরি করছে তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। ২০১৬ সালকে পর্যটনবর্ষ ঘোষণা করা হয়েছে। এটি ২০১৭-১৮ সাল পর্যন্ত বর্ধিত করা যেতে পারে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, ‘এই দেশের অর্জনের শেষ নেই। যে বৃটিশরা আমাদের শাসন করেছে, সেই দেশের সংসদে আজ তিন জন বাংলাদেশি সদস্য আছে। বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের অর্জন অনেক।’

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন,বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী আখতারুজ্জামান খান কবির। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আলী হোসেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব খোরশেদ আলম চৌধুরী,পর্যটন করপোরেশনের চেয়্যারম্যান ড. অপরূপ চৌধুরী ও কক্সবাজারের পুলিশ সুপার প্রমুখ।

যৌথভাবে ‘বিচ কার্নিভ্যাল’ আয়োজন করেছে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, ট্যুরিজম বোর্ড ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসন। তিন দিনের এই আয়োজনে দেশেসেরা শিল্পীদের গান,স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, নাচ ও রাতের সৈকতে আতশবাজি পোড়ানোসহ রয়েছে বিভিন্ন আয়োজন। উৎসবকে ঘিরে রয়েছে মেলা, নানা ধরণের খাবারের প্রদর্শনী,লোকশিল্প প্রদর্শনী, ঘুড়ি উৎসব, বিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট,বালুর ভাষ্কর্য তৈরি,আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ একাধিক আয়োজন। বিচসজ্জার পাশাপাশি সৈকত পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য বিশেষ সচেনতামূলক কর্মসূচী রাখা হয়েছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্টে গাইবেন নগর বাউল, এলআরবি, জলের গান, চিরকুট, মিলা, মাকসুদ ও ঢাকা, ভাইকিংস, শফি মণ্ডল ও কিরণ চন্দ্র রায়।

/সিএ/এএ/