কুমিল্লা জেলা প্রশাসক সস্ত্রীক প্রথম টিকা গ্রহণ করেছেন। এর মধ্য দিয়ে কুমিল্লায় ভ্যাকসিন প্রয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এর পরে টিকা নেন কুমিল্লার জেলা পুলিশ সুপার।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফ্রন্টলাইনারদের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্নকারীদের মধ্যে রবিবার সকালে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীরকে টিকা দিয়ে কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এর পরপরই জেলা প্রশাসকের স্ত্রী মনিরা নাজনীন, পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আবদুস ছালাম ও কুমিল্লা ইস্টার্ন মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. কলিম উল্লাহসহ প্রশাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগের চিকিৎসক, নার্সসহ বিভিন্ন কর্মকর্তারা টিকা গ্রহণ করেন।
টিকা গ্রহণের পর কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর বলেন, কুমিল্লা জেলায় প্রথম করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা আমি নিলাম। দ্বিতীয় টিকাটি জেলা পুলিশ সুপার নিয়েছেন। আমার অনুভূতি হচ্ছে টিকা গ্রহণে ভয় বা আতঙ্কের কিছু নেই। টিকা গ্রহণের সময় মনে হয়েছে সাধারণ ইনজেকশন। টিকা গ্রহণের পর ১০-১৫ মিনিট এক জায়গায় বসে ছিলাম। কোন ধরনের ব্যথা অনুভব হয়নি। সেই সাথে আমার স্ত্রীও আজকে টিকা নিয়েছেন। আমরা চাই কুমিল্লাবাসী সকলই ক্রমান্বয়ে মহামারি করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক ভ্যাকসিন (টিকা) গ্রহণ করবেন।
টিকা গ্রহণ করে কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা গ্রহণ ছিল খুবই স্বাভাবিক বিষয়। অতিরিক্ত কোনও ব্যথা অনুভব হয়নি টিকা গ্রহণের সময়।
তিনি বলেন, আমরা পুরো করোনাকালীন সময়ে মাঠে থেকে যুদ্ধ করেছি। মানুষকে মাস্ক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করেছি। টিকা হচ্ছে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক। কিন্তু তারপরও আমাদেরকে মাস্ক ব্যবহার অব্যাহত রাখতে হবে। তাহলে আমরা করোনার বিরুদ্ধে জয়ী হতে পারবো।
জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার নিয়াতুজ্জামান জানান, কুমিল্লার সদর হাসপাতালসহ জেলার ২৪টি কেন্দ্রে একযোগে টিকা প্রয়োগ শুরু হয়েছে আজ রবিবার। প্রতি কেন্দ্রে আজ ১৫০ জনকে টিকা দেওয়া হবে। আর কুমিল্লা সদর হাসপাতাল কেন্দ্রে দেওয়া হয় ২০০ জনকে।
তিনি আরও বলেন, কুমিল্লার জন্য পাওয়া গেছে ২ লাখ ৮৮ হাজার ডোজ টিকা, ১ লাখ ৪৪ হাজার লোককে দুই ডোজের মাধ্যমে এই টিকা দেওয়া হবে। নিবন্ধনকারীরা এসএমএস পেলেই টিকা দিতে পারবেন।