কক্সবাজারের ঘিঞ্জি আশ্রয় শিবিরগুলো থেকে স্বেচ্ছায় চতুর্থ দফায় (প্রথম অংশ) ভাসানচরের উদ্দেশে রোহিঙ্গাদের নিয়ে যাত্রা শুরু করেছে ২১টি বাস। রবিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ১২টায় উখিয়া ডিগ্রি কলেজের মাঠ থেকে তারা রওনা করেছে জানা গেছে। এদিন আরও একটি দলের যাওয়ার কথা রয়েছে। গত শুক্রবার ও শনিবার সকালে এই রোহিঙ্গাদের কক্সবাজারের শিবিরগুলো থেকে বাসে করে আনা হয়।
এ বিষয়ে ভাসানচর প্রকল্পের (আশ্রয়ণ প্রকল্প-৩) উপ-প্রকল্পের পরিচালক কমান্ডার এম আনোয়ারুল কবির বলেন, ‘চতুর্থ ধাপে (প্রথম অংশ) হাজার খানেক রোহিঙ্গা ভাসানচরে উদ্দেশে উখিয়া থেকে চট্টগ্রামে রওনা দিয়েছে। এবার তিন-চার হাজার রোহিঙ্গা স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যেতে রাজি হয়েছিল।’
জানা গেছে, উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে যাওয়ার জন্য শনিবার রাত থেকেই রোহিঙ্গারা সপরিবারে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আসতে থাকে। সকালের মধ্যে সেখানে হাজার খানেক রোহিঙ্গাকে দেখা গেছে। জানা গেছে, তাদের নাম নিবন্ধন চলছে। যাদের নিবন্ধন সম্পন্ন হচ্ছে তাদের মালপত্র ট্রাকে তুলে পরিবারের সদস্যদের বাসে ওঠানো হচ্ছে। প্রথম ধাপে ২১টি বাসে তাদের ওঠানো হয়। এগুলোর কোনও বাস ভর্তি আবার কোনোটাতে কম যাত্রী দেখা গেছে। বাসগুলো চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে।
কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গার দলটি ভাসানচরের উদ্দেশ রওনা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক (ডিসি) খোরশেদ আলম খান জানান, ‘স্বেচ্ছায় যেতে রাজি এবার আর তিন-চার হাজার রোহিঙ্গাকে ভাসনচরে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’
গত ২৯ ডিসেম্বর এক হাজার ৮০৪ জনের দ্বিতীয় দলটিকে ভাসানচরে নেওয়ার ঠিক একমাস পরে রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দলটি সেখানে যায়। এরপর ১৪ ফেব্রুয়ারি আরেকটি রোহিঙ্গা দল যাত্রা শুরু করে। এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে এক হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা হাসিমুখে ভাসানচরে পৌঁছায়। সর্বশেষ ২৯ জানুয়ারি সকালে এক হাজার ৭৭৮ রোহিঙ্গা নতুন করে ভাসানচরে পৌঁছায়। এছাড়া অবৈধভাবে সাগরপথে মালয়েশিয়া যেতে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসা ৩০৬ জন রোহিঙ্গাকে গত মে মাসে ভাসানচরে নিয়ে যায় সরকার, তারাও সেখানে রয়েছেন।
মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা ও নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় সাড়ে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। এর আগে আশ্রয় নেওয়াসহ বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে ঘিঞ্জি পরিবেশে বসবাস করছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সরকার। সেখানে এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে। ভাসানচরের পুরো আবাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী।