সবাইকে সাথে নিয়ে চট্টগ্রাম গড়বো, প্রথম কাজ মশা নিয়ন্ত্রণ: রেজাউল

সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এই সুধী সমাবেশের আয়োজন করেছি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলার জন্য। আমি বারবার একটি কথা বলেছি, ‘অনেকে মনে করে মেয়র নির্বাচিত হলে, চট্টগ্রাম শুধু মেয়রের’–আমি সেই পুরনো ধারা থেকে বের হয়ে আসতে চাই। চট্টগ্রাম শুধু মেয়রের নয়, সকল নগরবাসীর। তাই এই চট্টগ্রাম সুন্দর ও নান্দনিকভাবে গড়ার জন্য আমার যেমন দায়িত্ব আছে, তেমনি নগরবাসী প্রত্যেকের আছে।

তিনি বলেন, এই নগরীতে বাস করেন সাংবাদিক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। আমি সবার সঙ্গে পরামর্শ করতে চাই, মেধা কাজে লাগাতে চাই। চট্টগ্রামকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে চাই। কারণ, ব্যক্তির চিন্তা-চেতনায় ভুল থাকতে পারে তবে সামষ্টিক চিন্তায় ভুল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সফলতা এলে সবার, ব্যর্থ হলে এর দায়ভারও সবার। আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চাই।

সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে চসিকের দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত মেয়রের কাছে চট্টগ্রামকে উন্নত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন বক্তারা। এ সময় তারা নাগরিক দুর্ভোগ তুলে ধরে সেগুলো সমাধানে মেয়রকে বিভিন্ন পরামর্শ দেন।

বক্তব্য রাখছেন রেজাউল করিম

রেজাউল করিম বলেন, কোনও সমস্যা হলে সেটি মেয়রের ঘাড়ে এসে পড়ে। রাস্তায় যানজট, সেটিও মেয়রের দোষ। মানুষ মেয়রকে গালাগাল করেন। মেয়রের সীমাবদ্ধতা আছে। আমি সেগুলো বলতে চাই না। আমি শুধু একটি কথা বলতে চাই, এই শহর আমার, আপনার, সবার। এই শহরকে নিয়ে আমার যেসব পরিকল্পনা আছে সেগুলো আমি সবার সঙ্গে পরামর্শ করে করবো। আমি সবার সঙ্গে পরামর্শ করে এই শহরকে পরিপূর্ণ শহরে রূপ দিতে চাই।

সমন্বয়হীনতার কারণে চট্টগ্রাম আজ যেভাবে এগিয়ে যাওয়ার কথা সেভাবে এগিয়ে যেতে পারছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন একটি রাস্তা করলো। সুন্দর, ঝকঝকে রাস্তা। করার পরে দেখা যায়, ওই রাস্তায় খোঁড়াখুঁড়ি আরম্ভ হয়ে গেলো। জনদুর্ভোগ, জনভোগান্তি শুরু। জনগণ তখন মেয়রকে গালাগালি করে। এটি কেন হলো? এটি হয়েছে পরিকল্পনার অভাবে, সমন্বয়হীনতার কারণে। আমার একটাই পরিষ্কার কথা। যেই সেবা সংস্থাগুলো আছে সেই সেবা সংস্থাগুলোকে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। সমন্বয় সভায় যারা হাজির থাকতে পারবে না, তাদের জবাবদিহি করতে হবে। অনেক সময় অনেক সমন্বয় সভা হয়েছে, কিন্তু কার্যকর কোনও সমন্বয় সভা হয়নি। উন্নয়ন কাজ করতে হবে। সেটি সিটি করপোরেশনের সঙ্গে আগে আলাপ-আলোচনা করে, সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে করতে হবে। এটি করলে জনভোগান্তিও কমবে, জনগণ শান্তি পাবে।

রেজাউল করিম বলেন, ১০০ দিনে নগরীর সকল রাস্তা হয়ে যাবে তা আবেগের কথা। দায়িত্ব নেওয়ার পর আমরা প্রথমে মশা নিয়ন্ত্রণে কাজ করবো। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলায় আনবো। মানুষ শান্তি চায়। সড়ক যান চলাচলের উপযুক্ত করার চেষ্টা করবো। জলাবদ্ধতা নিরসন করা পাঁচ মাসের কাজ না। জলাবদ্ধতা নিরসনে সময় লাগবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলাবদ্ধতা নিরসনে ৮ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প দিয়েছেন। ওই প্রকল্পের আওতায় পাঁচ বছরে শহর জলাবদ্ধতামুক্ত হবে। বিদ্যমান খাল, নালা পরিষ্কার করে এবং যেগুলো ভরাট ও বেদখল হয়ে গেছে সেগুলো পুনরুদ্ধার করে খনন করা হবে।
সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

চট্টগ্রাম মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ ও সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠানের অতিথিরা

শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে বলেছেন। রেজাউল করিম চৌধুরী সবার মতামতের ভিত্তিতে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। যদি সবাই সহযোগিতা করেন তাহলে শতভাগ প্রত্যাশা পূরণ হবে। সব সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, এ শহরের সব নাগরিক, সব জনপ্রতিনিধি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, সন্ত্রাস, দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতি আমরা এ শহরে চাই না। আমরা শান্তিতে বসবাস করতে চাই। আমরা চাই যিনি নগরপিতা হিসেবে দায়িত্ব নেবেন তার কাছে অপরাজনৈতিক শক্তি ও যারা সন্ত্রাস করে, তাদের স্থান হবে না। সন্ত্রাসমুক্ত খুন-খারাপিমুক্ত চট্টগ্রাম চাই।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন চসিকের বিদায়ী প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী, সংসদ সদস্য ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমদ, নগর মহিলা লীগের সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিন, সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, চুয়েট উপাচার্য ড. রফিকুল আলম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আনোয়ারুল আজিম আরিফ, ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী একেএম ফজলুল্লাহ, নগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমদ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সিডিএ’র বর্তমান চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ, সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম প্রমুখ।