বসুরহাটে নিহত সিএনজিচালক আলাউদ্দিনও বিস্ফোরক মামলায় আসামি!

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাটে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সিএনজিচালক আলাউদ্দিনকেও বিস্ফোরক মামলার আসামি করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার (১৫ মার্চ) দুপুরে আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী কোম্পানীগঞ্জের চরকালী গ্রামের মৃত আলী আজ্জমের ছেলে ও উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি সালাহ উদ্দিন পিটন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২ নং আমলি আদালতে ওই মামলার এজাহারটি দায়ের করেন। এতে আলাউদ্দিনকে ৩৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলায় তার ছোট ভাই এমদাদ হোসেনকেও আসামি করা হয়েছে। এমদাদ তার ভাইকে হত্যা মামলার বাদী। তবে বাদীপক্ষের দাবি, মামলাটি গত ২০ ফেব্রুয়ারি ঘটনায়  দায়ের করা। তখন আসামি বেঁচে ছিলেন।

জানা গেছে, সোমবার দুপুরে মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী সালাহ উদ্দিন পিটন (৪১) বাদী হয়ে নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ২নং আমলি আদালতে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। বিকালে আদালতের বিচারক এস এম মোসলেহ উদ্দিন মিজান মামলাটি গ্রহণ করে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন।

এজাহারে আসামিদের নাম।

মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরফকিরা ইউনিয়নের চাপরাশিরহাট পূর্ব বাজারে মিজানুর রহমান বাদলের নেতৃত্বে ১০৫ জন সন্ত্রাসী মেয়র আবদুল কাদের মির্জার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা কামাল পাটোয়ারীসহ বেশ কয়েকজনকে গুলি করে জখম করে। এসময় মামলার ৩১-৫৫ নম্বর আসামিরা  গুলি ও বোমা বিষ্ফোরণ করে ভীতির সৃষ্টি করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় মামলার বাদী (সালাউদ্দিন পিটন) গত ২০ ফেব্রুয়ারি কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি এজাহার দায়ের করলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। তাই তিনি চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০৫ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত নামা আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন। এ মামলায় কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাগিনা মাহবুব রশিদ মঞ্জু, ফখরুল ইসলাম রাহাত, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান, সাধারণ সম্পাদক নূর নবী চৌধুরীর পাশাপাশি ওই ঘটনায় নিহত হওয়া আলাউদ্দিনকে  ৩৬ নম্বর এবং তার ভাই এমদাদ হোসেনকে ৩২ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৯ মার্চ বিকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আলাউদ্দিন (৩০) নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন।

এরও আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলার চাপরাশিরহাট পূর্ব বাজারে মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছিল। সেসময় স্থানীয় সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কিরসহ বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধসহ অর্ধশতাধিক আহত হয়। পরদিন শনিবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির।

সালাউদ্দিন পিটন এর আইনজীবী শংকর চন্দ্র ভৌমিক বলেন, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকালে চাপরাশিরহাট পূর্ব বাজারের সংঘর্ষের পরদিন কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ তা গ্রহণ করেনি। একই অভিযোগ পত্রটি গতকাল সোমবার আদালতে দাখিল করা হয়েছে। ২০ ফেব্রুয়ারি আলাউদ্দিন জীবিত ছিল। একই এজাহার আদালতে দাখিল করায় তখন তার নাম থাকায়, তা রয়ে গিয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, মৃত ব্যক্তি আইনগতভাবে মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়ে যাবেন।