ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা বিএনপি’র বিবদমান দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসময় পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার (২৬ মার্চ) সকাল ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলা বিএনপি’র নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক নুরুজ্জামান চৌধুরী লস্কর তপু ও যুগ্ম আহ্বায়ক আনিছ ঠাকুরের নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা সরাইলের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে আসেন। এসময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মাস্টারের সমর্থক যুবদলের সাবেক সভাপতি মুন্নার সঙ্গে বর্তমান উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনিছ ঠাকুরের প্রথমে কথা কাটাকাটি হয়। পড়ে এ নিয়ে বিএনপির সমর্থকরা দুই দলে বিভক্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় শহীদ মিনার এলাকা, সরাইল অন্নদা স্কুলের মোড় ও আশপাশের এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
পরে শহীদ মিনারের আশপাশে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। অবস্থা বেগতিক হওয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ এসে যোগ দেয়। বেশ কিছুক্ষণ পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে।
সংর্ঘষ চলাকালে সরাইল থানার ওসি মো. নাজমুল আলম ও তার সঙ্গীয় ১০ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়। সংঘর্ষে আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান জানান, উপজেলা বিএনপির বিবদমান দুটি গ্রুপ একই সময়ে সরাইল উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার সময় বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এসময় উভয় পক্ষকে পুলিশ শহীদ মিনার এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়। পরে তারা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে দুই দল বিভক্ত হয়ে শহীদ মিনার ও এর আশপাশ এলাকায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।
তিনি জানান, এ ঘটনায় সরাইল থানার ওসিসহ অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এ ঘটনায় ছয় দাঙ্গাবাজকে দেশীয় অস্ত্রসহ ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।