দেশের বিভিন্ন স্থানে যে তাণ্ডব চালানো হয়েছে তার সঙ্গে বিএনপি-জামায়াত জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘কয়েক দিন আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্নস্থানে যে তাণ্ডব চালানো হয়েছে, এটি একটি সংগঠনের ব্যানারে হলেও এর সঙ্গে বিএনপি এবং জামায়াত জড়িত। কারণ তারা বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বানানোর স্বপ্ন দেখে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়েছিল মাত্র। ইসলাম কখনও এগুলো সমর্থন করে না, এই অপশক্তিকে রুখতে হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তাণ্ডব ইসলামের উপর কালিমা লেপন করেছে।’
বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মুজিব কর্নার ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রিসার্চ সেন্টার ফর ইসলাম অ্যান্ড ইন্টাররিলিজিয়াস ডায়ালগ (বিআরসিআইআইডি)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তৃতায় হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৈরাজ্য চালানো হয়েছে। মানুষের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, সম্পদ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, ব্যক্তিগত গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেকে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনেছেন, সেই গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইসলাম তো কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি জ্বালিয়ে দেওয়ার কথা বলেনি, ইসলাম এটি কখনও সমর্থন করে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের সঙ্গে ঋণ করে যে ব্যক্তি গাড়ি কিনেছে সেটির কী সম্পর্ক? আজকে ইসলামের কথা বলে অপকর্ম করা হচ্ছে, আমাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতির উপর আঘাত হানা হচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সুর সম্রাট আলাউদ্দিন খাঁ একাডেমি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভূমি অফিস জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনে হামলা করা হয়েছে। এগুলো ১৯৭১ সালে হানাদার বাহিনী করেছে, আজকে এই কাজগুলো যারা করছে তারা ১৯৭১ সালে হানাদার বাহিনীকে বাংলাদেশে গণহত্যা করার জন্য যারা সহায়তা করেছিল সেই অপশক্তির পরবর্তী প্রজন্ম।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একটি অপশক্তি আজকে বাংলাদেশকে আফগানিস্তান বানানোর স্বপ্ন দেখছে। এই অপশক্তির সহায়ক ছিল অতীতে যারা চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিল তারাও। এই বিশ্ববিদ্যালয়েও জগদ্দল পাথরের মতো এই অপশক্তি বাসা বেঁধে ছিল। সেই অপশক্তির হাত থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি উদ্ধার করা হয়েছে। এই অপশক্তিকে রুখতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন খাদিজাতুল আনোয়ার সনি এমপি, উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ, ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য রিজিয়া রেজা চৌধুরী, ইসলামি আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি আহসান উল্লাহ, প্রফেসর ড. ছালেহ জহুর, শাহরিয়ার জাহান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘কোনও রাজনৈতিক দল এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেনি, কোনও রাজনৈতিক দলের সম্পদও নয় এটি। ইসলামিক শিক্ষায় জাতিকে যারা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, ধর্মীয় শিক্ষা, প্রযুক্তি শিক্ষা ও বিজ্ঞান শিক্ষাসহ সব ধর্মের মানুষকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করতে চেয়েছিলেন তাদের প্রচেষ্টায় এই বিশ্ববিদ্যালয় আজকে এখানে এসেছে। যে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন মহামান্য আদালত বাতিল করেছেন, তাদের কিছু ব্যক্তি অপপ্রচার করে এটাকে নিজের পৈত্রিক সম্পত্তির মতন ব্যবহারের জন্য দখল করে রেখেছেন। এটা কখনও কাম্য হতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘যে আইনে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয় সেই আইনের সুনির্দিষ্ট বিধান আছে যারা দেশে জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ ও অরাজকতা সৃষ্টির সঙ্গে জড়িত থাকবে তারা কোনোভাবেই কোনো বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পৃষ্ঠপোষকতার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারবে না। এই আইনি বিধান থাকায় রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের উপর দায়িত্ব বর্তায় এ সমস্ত কার্যকলাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাহার করে যারা বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন তাদের অধিষ্ঠিত এবং প্রতিষ্ঠা করা। তদন্তপূর্বক সেই আইনি দায়িত্ব এখানে সম্পাদন করা হয়েছে।’
শিক্ষা উপমন্ত্রী বলেন, ‘কাগজপত্র দালিলিক অনুসন্ধান করে দেখেছি চট্টগ্রাম এবং দেশ-বিদেশের অনেক অনুরাগী দানশীল ব্যক্তি সব সময় অনুদান দিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আজকের এই পর্যায়ে এনেছে। তাদের উত্তরসূরিরা আজকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন, এটি আমাদের জন্য গৌরবের বিষয়।’