চট্টগ্রামে আইনজীবীকে বাসায় ডেকে নিয়ে জিম্মি করে টাকা দাবি করার অভিযোগে এক নারীসহ দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে শহরের আগ্রাবাদ মৌলভীপাড়া ইউসুফ হাজির বাড়ির জাহেদের বসতঘরের নিচ তলার একটি কক্ষ থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন এ তথ্য জানিয়েছেন। ওই ঘর থেকে জিম্মি অ্যাডভোকেট এসএইচএম হাবিবুর রহমান আজাদকে (৫২) উদ্ধার করা হয় বলে তিনি জানান।
গ্রেফতার দুই জন হলেন—জোবাইদা সুলতানা হীরা ওরফে সোনিয়া (২৫) ও তার সহযোগী ইমরান। এদের মধ্যে সোনিয়ার বিরুদ্ধে একটি হত্যাসহ তিনটি মামলা রয়েছে। ইমরানও তিন মামলার আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ওসি মোহাম্মদ মহসীন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সোনিয়া সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের প্রধান। তার গ্রুপে আরও চার জন ছেলেও আছে। সোনিয়া প্রেমের অভিনয় করে ছেলেদের নিজ ঘরে নিয়ে আসে। এরপর চক্রের বাকি সদস্যরা অশ্লীল ছবি তুলে জিম্মি করে টাকা আদায় করে। যারা ছবি দেখেও টাকা দেয় না তাদের মারধর করে, এমনকি প্রাণনাশেরও হুমকি দেয়। তাদের হাতে এভাবে জিম্মি অবস্থায় ২০১৩ সালে একজন মারা যান। গতকালও অ্যাডভোকেট হাবিবকে একটি মামলার বিষয়ে কথা আছে বলে চৌমুহনীতে দেখা করে সোনিয়া। একপর্যায়ে সেখান থেকে মৌলভীপাড়ার বাসায় যেতে বলে। অ্যাডভোকেট হাবিবও তার কথায় বাসায় যান। কিন্তু বাসায় যাওয়ামাত্রই আরও তিন যুবক তাকে আটক করে ফেলে। তারা তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করে। অন্যথায় প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এ সময় হাবিব কৌশলে থানায় ফোন করেন। পরে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে সোনিয়াকে গ্রেফতার করে। তবে বাকিরা পুলিশ আসার আগেই পালিয়ে যায়। পরে অভিযান চালিয়ে ইমরানকে গ্রেফতার করা হয়।’
ওসি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোনিয়া জানায়, গত ১০ বছরে কমপক্ষে ৫০টি জিম্মির ঘটনা ঘটিয়েছে তার চক্র। গ্রেফতার সোনিয়ার বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় ৩টি মামলা রয়েছে। এছাড়া চক্রে জড়িত প্রত্যেকেই ২ থেকে ৩ মামলার আসামি।’