ঘুষ, দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগে কুমিল্লার দাউদকান্দির স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনূর আলমকে ওএসডি করা হয়। ওএসডি হওয়া এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা যোগদানকৃত নতুন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে না দিয়েই নতুন এসি, মেঝের কার্পেট ও গাড়ির বাম্পার নিয়ে চলে গেলেন।
গত বৃহস্পতিবার আর্টিক্যাল ৪৭ খাতায় স্বাক্ষর দিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কর্মকর্তার কার্যালয়ের করে নতুন এসি, মেঝের কার্পেট, স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাড়ির বাম্পার নিয়ে তিনি চলে যান।
এদিকে ওএসডি হওয়া মোহাম্মদ শাহীনূর আলমের স্থলে রবিবার (২ মে) সকালে নতুন দায়িত্ব নিলেন ২৫তম বিসিএসের (স্বাস্থ্য) কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম।
নতুন যোগ দেওয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, গাড়ির বাম্পার, নতুন এসি ও মেঝের কার্পেট খুলে নেওয়ার বিষয়টি আমি একাধিক সূত্রে শুনেছি।
এর আগে পল্লি চিকিৎসকদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে (ভাইরাল) পড়ার পর গত সোমবার স্বাস্থ্য অধিদফতর শাহীনূর আলমকে ওএসডি করার পদক্ষেপ নেয়।
মোহাম্মদ শাহীনূর আলমকে নিয়ে কয়েকদিন ধরে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যাচ্ছে। এতে দেখা গেছে, তিনি পল্লি চিকিৎসকদের কাছ থেকে তালিকা ধরে মাথাপিছু বিভিন্ন অঙ্কের টাকা আদায় করছেন। এ ছাড়া অভিযোগ রয়েছে, শাহীনূরের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিন্ডিকেট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও অন্য চিকিৎসকদের মাধ্যমে নিম্নমানের ভিটামিন সিরাপ ও ক্যালসিয়াম ট্যাবলেট ব্যবস্থাপত্রে লিখে থাকেন। পাশাপাশি এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্তর্বিভাগ ও বহির্ভাগের রোগীদের বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বাধ্য করার অভিযোগও রয়েছে। এর বাইরে ঠিকাদারদের সঙ্গে আঁতাত করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উন্নয়নকাজ সঠিকভাবে না করার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া অভিযোগ ওঠে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মাঠে দাঁড়িয়ে ফুসকা বিক্রেতা অরুণ দেবনাথের কাছ থেকেও মাসিক তিন হাজার টাকা আদায় করতেন।
দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কয়েকজন কর্মচারী বলেন, নিয়ে যাওয়ার সময় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা দাবি করেছিলেন গাড়ির বাম্পার, নতুন এসি ও মেঝের কার্পেট তার নিজস্ব উপহার পাওয়া সম্পদ। এর বেশি কিছু জিজ্ঞাসা করতে পারিনি।