হাটহাজারীতে তাণ্ডব, হেফাজত নেতা ও সহযোগী গ্রেফতার

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের ঘটনায় করা মামলায় আমিনুল ইসলাম (২৭) নামে সংগঠনটির এক নেতা ও তার সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (২৬ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক।

গ্রেফতার আমিনুল ইসলাম হেফাজতে ইসলামের হাটহাজারী পৌরসভা শাখার সহ-দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক। তিনি হাটহাজারী পৌরসভার মুন্সি বাড়ির ইউনুছ খলিফার ছেলে।

গ্রেফতার অপরজন আফতাব উদ্দিন পিয়ারু (২৪) ফটিকছড়ি উপজেলার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মোজাফফর চৌধুরী বাড়ির মাওলানা আলাউদ্দিনের ছেলে। তাদের কাছ থেকে সংগঠনটির গঠনতন্ত্র, সংগঠন পদ্ধতি, সদস্য সংগ্রহ ফরম, কর্মী রিপোর্ট ফরম ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়।

এস এম রশিদুল হক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গ্রেফতার আমিনুল ইসলাম গত ২৬ মার্চ হাটহাজারীতে হেফাজতে ইসলামের তাণ্ডবের ঘটনায় দায়ের করা এক মামলার এজহারভুক্ত আসামি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার রাতে তাকে ফটিকছড়ি উপজেলা লেলাং এলাকার একটি বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়। তাদের হাটহাজারী থানায় করা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।

গত ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আগমনের বিরোধিতা করে হাটহাজারীতে বিক্ষোভ করেন হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। এ সময় হাটহাজারী দারুল উলুম ময়নুল ইসলাম মাদ্রাসা থেকে মিছিল বের করে হাটহাজারী থানায় ভাঙচুর চালানো হয়।

পাশাপাশি হেফাজত নেতাকর্মীরা হাটহাজারী উপজেলা ভূমি অফিস ও সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করেন। দিনভর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। এ ঘটনার জেরে হাটহাজারীতে তাণ্ডব চালান তারা। সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ করেন। মাদ্রাসার সামনে ইটের দেয়াল তুলে ব্যারিকেড দেন। এসব ঘটনায় শুরুতে হাটহাজারী থানায় মোট ছয়টি মামলা করা হয়। গত ২২ এপ্রিল হেফাজতের বিলুপ্ত কমিটির আমির জুনাইদ বাবুনগরীকে প্রধান আসামি করে দুটিসহ হাটহাজারী থানায় তিনটি মামলা করা হয়।