সরিষা বীজ ঘোষণা দিয়ে মালয়েশিয়া থেকে আনা দুই কন্টেইনার আমদানি নিষিদ্ধ পপি বীজ আটক করেছে কাস্টমস হাউজের অডিট ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড রিসার্চ (এআইআর) শাখা। মঙ্গলবার (১ জুন) দুপুরে চালানটি আটক করার বিষয়টি জানানো হয়। কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার (এআইআর শাখা) রেজাউল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রেজাউল করিম বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, এই ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের আসামি করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে অপরাধের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে কাস্টম হাউসের অ্যান্টি মানিলন্ডারিং ইউনিট। পুরান ঢাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আজমিন ট্রেড সেন্টার সরিষা বীজ ঘোষণায় মালয়েশিয়া থেকে দুই কন্টেইনার পণ্য আমদানি করে। গত এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখ আমদানিকারকের মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হটলাইন কার্গো ইন্টারন্যাশনাল পণ্য চালানটি খালাসের জন্য বিল অব এন্ট্রি (সি- ৬৫১৭৮০) দাখিল করে।
তিনি বলেন, ‘চালানটিতে আমদানি নিষিদ্ধ পণ্য আনা হয়েছে এমন গোপন সংবাদ থাকায় হটলাইন কার্গো ইন্টারন্যাশনাল শুল্ক পরিশোধ করে চালানটি খালাসের প্রক্রিয়া শুরু করলে আমরা তা স্থগিত করে দিই। পরে সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে কায়িক পরীক্ষায় আমদানিকারকের ঘোষিত ৫৪ টন সরিষা বীজের স্থলে ১২ টন সরিষা বীজ এবং ৪২ টন আমদানি নিষিদ্ধ পপি বীজ পাওয়া যায়। একই রকম লেখা ও একই রঙের বস্তায় কন্টেইনারের সামনের অংশে সরিষা বীজ ও পেছনের দিকে পপি বীজ পাওয়া যায়। এরপর অধিকতর নিশ্চিতের জন্য পণ্যের নমুনা ঢাকায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষা শেষে পাঠানো নমুনাকে পপি বীজ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দেয় সরকারি প্রতিষ্ঠানটি। এরপর চালানাটি আজ (মঙ্গলবার) আটক করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজার দর অনুযায়ী ৪২ টন পপি বীজের বিক্রয় মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটি সরিষা বীজের মূল্য বাবদ ২২ লাখ টাকা এলসির মাধ্যমে চালানটি আমদানি করে। পণ্যের অবশিষ্ট মূল্য অবৈধভাবে বিদেশে পাচার করে পরিশোধ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি কাস্টমস হাউজের অ্যান্টি মানিলন্ডারিং ইউনিট খতিয়ে দেখছে।’