ডিএনএ টেস্টে প্রমাণ হয়নি কন্যাশিশুর বাবা কনস্টেবল শাওন

ফেনীতে চার মাস আগে ধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার পুলিশ কনস্টেবল তৌহিদুল ইসলাম শাওনকে জামিন দিয়েছেন আদালত। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের ফলে এক কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে বলে যে অভিযোগে মামলা হয়েছিল তা ডিএনএ টেস্ট রিপোর্টে প্রমাণিত না হওয়ায় তিনি এ জামিন পান বলে জানিয়েছেন আসামি পক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক ছোটন।

আইনজীবী ফজলুল হক ছোটন জানান, বুধবার (২৩ জুন) ফেনীর জেলা ও দায়রা জজ জেবুন্নেছার আদালত কনস্টেবল শাওনকে জামিন দেন। রাতেই তিনি ফেনী জেলা কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে চলে যান।

আদালত সূত্র জানায়, কনস্টেবল তৌহিদুল ইসলাম শাওন ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার বশিকপুর এলাকার আমিনুল ইসলামের ছেলে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি গ্রেফতার হওয়ার পর চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত হন শাওন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক ছোটন জানান, শাওনের বিরুদ্ধে বিয়ের কথা বলে কিশোরীর সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলা ও কয়েকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠে। এতে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন বলেও অভিযোগ করা হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারি ওই কিশোরী একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন উল্লেখ করে কিশোরীর মা বাদী হয়ে ফুলগাজী থানায় মামলা করেন। মামলায় শাওনসহ চার জনকে আসামি করা হয়। মামলার অন্য আসামিরা হচ্ছেন শাওনের বাবা আমিনুল ইসলাম, মা শানু ও মামা ফিরোজ আহম্মদ বাবু।

আসামি পক্ষের আইনজীবী ফজলুল হক ছোটন আরও জানান, মামলায় যেসব তারিখে ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়, সেসব তারিখে অভিযুক্ত শাওন কর্মস্থলে ছিলেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এ বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছেন। এছাড়া ডিএনএ টেস্টে প্রমাণিত হয়েছে, অভিযুক্ত শাওন ওই কন্যাশিশুর পিতা নন। এ পরিপ্রেক্ষিতে ফেনীর জেলা ও দায়রা জজ জেবুন্নেছা কনস্টেবল শাওনকে জামিন দেন।

এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী নূরুল আফসার মুকুল দাবি করেন, ‘ডিএনএ টেস্টে অসঙ্গতি আছে। ডিএনএ টেস্টের সব নিয়ম তারা পালন করেনি। আমরা ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় আবেদন করেছি।’

তিনি আরও বলেন, তা হলে এই সন্তানের পিতা কে তা সরকারকে বের করতে হবে। প্রকৃত অপরাধীকে খুঁজে বের করার দাবি জানান তিনি।

শাওনের বাবা আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি নিজেও পুলিশে চাকরি করেছি। আমার ছেলে পুলিশ। তারা শুধু আমাদের অসম্মান করেনি, গোটা পুলিশ পরিবারকে অসম্মান করেছে। তিনি মামলাটি সাজানো দাবি করে বাদীসহ সংশ্লিষ্ট সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়েছেন।